কোচি: আগামী ৯ এপ্রিল কেরলের বিধানসভা নির্বাচন। জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে সব দল। আর সেই প্রচারে হঠাত্ করেই ইস্যু হয়ে উঠেছেন ফুটবলার লায়োনেল মেসি। ফুটবল আইকনকে নিয়ে সকাল-বিকেল ক্ষমতাসীন বাম জোট এলডিএফের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। কিন্তু স্থানীয় বিষয় ছেড়ে আর্জেন্তিনার ফুটবলার কেন নির্বাচনের ইস্যু হয়ে উঠলেন? ২০২৪ সালের নভেম্বরে কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরাহিমান ঘোষণা করেন, মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্তিনা দল কেরল সফরে আসবেন। দুটি ম্যাচও খেলবেন তাঁরা। এর জন্য জোরদার প্রস্তুতিও শুরু করে দেয় রাজ্য সরকার। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও সগর্বে ঘোষণা করেন, কেরল ইতিহাস তৈরি করতে চলছে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। মেসি কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বই ও দিল্লিতে গেলেও, কেরলে আসেননি। আর তাতেই চটেছেন ‘ফুটবলপ্রিয়’ কেরলবাসীদের একাংশ। আর সেই ক্ষোভকেই ভোটের লড়াইয়ে কাজে লাগাতে উঠেপড়ে লেগেছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, জনগণের টাকা নয়ছয় করে ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ করেছে সরকার।
সম্প্রতি এর্নাকুলামের পারাভুরে কনভেনশনের আয়োজন করেছিল ইউডিএফ। সেখানে মালয়লাম সিনেমার বিখ্যাত অভিনেতা সালিম কুমারও এই নিয়ে সরব হন। কংগ্রেস সমর্থক বলে পরিচিত সালিম মেসিকে নিয়ে বলতে গিয়ে ‘সোনা কেলেঙ্কারি’র প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। তাঁর কটাক্ষ, মেসির কাছে আটটি ব্যালন ডি’ওর রয়েছে। প্রতিটিই সোনার বল। সেই সোনা চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়েই মেসি কেরলে আসেননি। মেসি না আসায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যেও। তিরুরের বাসিন্দা উমর ফারুক নামে এক ফুটবলারের বক্তব্য, ‘ভেবেছিলাম মেসিকে দূর থেকে হলেও একঝলক দেখতে পাব। মালাপ্পুরামে রোডশো হবে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। তিরুর থেকেই নির্বাচনে লড়াই করছেন ক্রীড়ামন্ত্রী আবদুরাহিমান। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের বিধায়ক কুরুক্কোলি মইদিন। তাঁর প্রচারে স্লোগান উঠছে, ‘মেসি আসেননি, কিন্তু কুরুক্কোলি আসবেন।’ আর্জেন্তিনা ফ্যানস কেরল (এএফকে) নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজের অ্যাডমিন কৃষ্ণা রাজের বক্তব্য, ‘প্রচুর টাকা খরচ করা হয়েছিল, কিন্তু কিছুই হয়নি। তরুণ প্রজন্ম সরকারের উপর খেপে রয়েছে। তাদের রাগ নির্বাচনেও দেখা যাবে।’
যদিও কেরলের ফুটবল ভক্তদের একাংশই আবার মনে করছেন, মেসি ইস্যু ভোটে তেমন প্রভাব ফেলবে না। আদ্যন্ত মেসি ভক্ত কান্নুরের বাসিন্দা বিজু যেমন বললেন, ‘মেসির না আসা নিয়ে সমালোচনা অনেকাংশেই সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই ইভিএমে এর কতটা ছাপ পড়বে, তা ফল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে।