Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘পশ’ এলাকায় ‘বস্তি’ ঢোকালেন কেন? অপরিবর্তিত থাকুক ওয়ার্ড, ডিলিমিটেশন নিয়ে কলকাতা পুরসভায় ‘অদ্ভুত’ প্রস্তাব

‘পশ’ এলাকার সঙ্গে ‘বস্তি’ মেশালেন কেন? সম্ভ্রান্ত অঞ্চল বা ওয়ার্ডের মধ্যে কেন ঢোকানো হল নিম্নবিত্তদের কলোনি বা বস্তি?

‘পশ’ এলাকায় ‘বস্তি’ ঢোকালেন  কেন? অপরিবর্তিত থাকুক ওয়ার্ড, ডিলিমিটেশন নিয়ে কলকাতা পুরসভায় ‘অদ্ভুত’ প্রস্তাব
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘পশ’ এলাকার সঙ্গে ‘বস্তি’ মেশালেন কেন? সম্ভ্রান্ত অঞ্চল বা ওয়ার্ডের মধ্যে কেন ঢোকানো হল নিম্নবিত্তদের কলোনি বা বস্তি? তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ‘পশ’ এলাকাকে আলাদা করার দাবি জানিয়ে একাধিক প্রস্তাব জমা পড়েছে কলকাতা পুরসভায়। শহরের ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নাগরিকদের মতামত চাওয়া হয়েছে। সেখানেই জমা পড়া চিঠিতে তথাকথিত সম্ভ্রান্ত মানুষজনের এহেন মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পুর-কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, সরাসরি এই ভাষায় না বলা হলেও চিঠির বয়ানের মর্মার্থ এটাই। আবার, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতা সংলগ্ন সোনারপুর-রাজপুর পুরসভার অন্তর্গত বহু বাসিন্দা কলকাতা পুরসভার আওতায় আসতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। 

Advertisement

ইতিমধ্যে কলকাতার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রকাশিত হয়েছে। তার উপর মতামত জানানোর শেষ দিন আজ, বৃহস্পতিবার। পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে মতামত, অভিযোগ, দাবিদাওয়া সংক্রান্ত ৬৫টি চিঠি জমা পড়েছে পুর প্রশাসক তথা কমিশনারের অফিসে। সেগুলি খুঁটিয়ে দেখছেন পুরসভার আধিকারিকরা। আর তা করতে গিয়েই নাগরিক সমাজের একাংশের এমন ‘অদ্ভুত’ বক্তব্য নজরে এসেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ, গোলপার্ক, সাদার্ন অ্যাভিনিউ অঞ্চল থেকে এমন বেশ কয়েকটি চিঠি এসেছে। এসব অঞ্চল সাধারণভাবে শহরের ‘পশ’ বা ‘অভিজাত’ এলাকা হিসাবে পরিচিত। এসব এলাকার নাগরিকের তরফে জমা পড়া চিঠির সারমর্ম হল, তাঁদের ‘সম্ভ্রান্ত’ ওয়ার্ডের মধ্যে কেন এখন ‘বস্তি’ এলাকা ঢোকানো হচ্ছে? পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওই নাগরিকদের দাবি, এতদিন ওয়ার্ডের মধ্যে সুস্থ-শান্ত পরিবেশ বজায় ছিল। সেখানে এমন নিম্নবিত্ত বস্তি এলাকা নিয়ে ওয়ার্ডের নতুন সীমানা তৈরি হলে তাতে ওয়ার্ডের সেই পরিবেশ নষ্ট হবে। তাঁরা ওয়ার্ডের সীমানা অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। এক পুর-আধিকারিকের কথায়, ‘গরিব-বড়লোকের ভিত্তিতে তো আর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হয় না। এটা এলাকাভিত্তিক বিষয়। কলকাতা কসমোপলিটন সিটি। সেখানে বিভিন্ন বর্গের মানুষের বসবাস স্বাভাবিক।’
পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার ১০৮ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড লাগোয়া সোনারপুর-রাজপুর পুরসভা থেকে বেশ কয়েকটি চিঠি এসেছে। সেখানকার নাগরিকরা কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত হতে চাইছেন। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই পুনর্বিন্যাসে কলকাতা পুরসভার সীমানায় কোনো বদল (সিডিউল-১) হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ড বিন্যাসের (সিডিউল ২) পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে যেসব আবেদন আসছে, সেগুলি নিয়ে বিবেচনা করা আপাতত সম্ভব নয়। এছাড়া, কোন ওয়ার্ড বদলে কত নম্বর হল, পার্ট নম্বর কত, ওয়ার্ডের জনসংখ্যা কত হতে চলেছে, এই ধরনের তথ্য পেতেও বহু নাগরিক চিঠি দিয়েছেন বলে পুরসভা সূত্রে খবর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ