Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোডাউন নির্মাণে কেন শিশু শ্রমিক? তদন্তে সিট, তারাতলায় তিন নাবালকের মৃত্যু, দাবি লালবাজারের

গোডাউন নির্মাণে তিন নাবালকের মৃত্যু ঘটেছে। তদন্তে সিট, গ্রেপ্তার লেবার সাপ্লায়ার। শিশু শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

গোডাউন নির্মাণে কেন শিশু শ্রমিক? তদন্তে সিট, তারাতলায় তিন নাবালকের মৃত্যু, দাবি লালবাজারের
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করার পর নিথর মুখটা দেখেই তদন্তকারীরা ঠাওর করেছিলেন, শুধুমাত্র পেটের টান না থাকলে এত কম বয়সে কেউ হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে আসে না। মৃত শ্রমিক শনাক্তকরণের সময় কৃষ্ণনগরের রাহুল চৌধুরীর আধার কার্ড তদন্তকারীদের হাতে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ। বয়স ১৮-ই হয়নি। তাহলে শ্রমিক হিসাবে কীভাবে সে নির্মাণ সংস্থায় যুক্ত হল? 

Advertisement

রাহুলের বিষয়টি নজরে দিতেই লালবাজারের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধদমন) কুণাল আগরওয়ালের দেওয়া তথ্য বলছে, নাবালক নিথর শ্রমিকদের মধ্যে একা কৃষ্ণনগরের কিশোর নয়, আরও দু’জন ১৭ বছর বয়সিও রয়েছে। গোডাউন বিপর্যয়ের জেরে তাদেরও মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম সাহিল সর্দার ও ঘি কুমার। অর্থাৎ, বেআইনিভাবে তিনজন শিশুশ্রমিককে কাজে লাগানো হচ্ছিল। আইন বলছে, শিশুশ্রমিক নিযুক্ত করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ।
সিট সূত্রে খবর, গোডাউন নির্মাণের জন্য শ্রমিক জোগানের প্রক্রিয়া কীভাবে হয়েছিল? কারা জোগান দিয়েছিলেন শ্রমিক? সবটাই তদন্তসাপেক্ষ। শিশুশ্রম কার নির্দেশে অনুমোদন করা হয়েছিল? তা তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। লালবাজার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দিবাকর ভাণ্ডারি নামে একজন লেবার সাপ্লায়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, সাধারণত শিশুশ্রমিকদের পারিশ্রমিক কম। কিন্তু, তাদের খাটনি সমান। লাভের অংক বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত? ধৃত দিবাকর তদন্তকারীদের জেরার মুখে পড়লে তা স্পষ্ট হবে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে গোয়েন্দাপ্রধান কুণাল আগরওয়াল বলেন, নির্মাণক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়মিত নথিভুক্ত করার কোনো প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়নি। তাই মোট কতজন সেখানে কর্মরত ছিলেন তা স্পষ্ট হচ্ছে না।
অন্যদিকে, গোডাউন নির্মাণের কার্যপদ্ধতির দিকেও নজর সিটের। নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি, ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, নির্মাণ আঁটসাঁট রাখতে লোহার বিমের মধ্যে সংযোগস্থাপনের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তা হয়নি। তার জেরে এই ভয়াবহ বিপর্যয়। তদন্তকারীদের মতে, লোহার বিম প্রস্তুতকারক সংস্থার গাফিলতি রয়েছে। সেই সংস্থার কর্ণধার কমল সামন্তকেও পাকড়াও করেছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ