Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

না জানিয়ে ইরানে হামলা কেন? ট্রাম্পকে বেনজির তোপ আমিরশাহির ব্যবসায়ীদের

তাঁর নাম খালাপ আল-হাবতুর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ‘সাম্রাজ্য’। হোটেল, আবাসন, শিক্ষা ও নির্মাণে একচেটিয়া ব্যবসা। এই ধনকুবেরের অন্য পরিচয়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বন্ধু’

না জানিয়ে ইরানে হামলা কেন? ট্রাম্পকে বেনজির তোপ আমিরশাহির ব্যবসায়ীদের
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দুবাই ও আবু ধাবি: তাঁর নাম খালাপ আল-হাবতুর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ‘সাম্রাজ্য’। হোটেল, আবাসন, শিক্ষা ও নির্মাণে একচেটিয়া ব্যবসা। এই ধনকুবেরের অন্য পরিচয়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বন্ধু’। একটা সময় দু’জনে মিলে দুবাইয়ের পাম জুমেইরাতে ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত না হলেও দু’জনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরেনি। ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর আমিরশাহির এই ধনকুবের মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার বন্ধু কাজের মানুষ!’ এহেন আল-হাবতুরই এবার ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। এক্স হ্যান্ডলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে রাখঢাক না করেই এই শিল্পপতির তোপ, ‘ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে আমাদের গোটা অঞ্চলকে জড়াতে আপনাকে কে অনুমতি দিয়েছে? আপনি এমন মারাত্মক সিদ্ধান্ত কীসের ভিত্তিতে নিলেন? কার অনুমতিতে আপনি গোটা অঞ্চলকে রণক্ষেত্র বানিয়ে ছাড়লেন?’ আল-হাবতুরের মতো আমিরশাহির অন্যান্য ধনকুবের ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। প্রত্যেকের প্রশ্ন একটাই—না জানিয়ে ইরানে হামলা কেন? 

Advertisement

যুদ্ধের আঁচ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে পড়েছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। শনিবারই আল-হাবতুরের দেশ আমিরশাহিতে ফের হামলা চালিয়েছে ইরান। ফুজাইরা বন্দরে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল। আগুন লেগে গিয়েছে সেখানকার তেল স্টোরেজের পরিকাঠামোয়। কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গিয়েছে বহু দূর থেকেও।
শুধু আমিরশাহি নয়, আশপাশের দেশগুলিও আক্রান্ত হচ্ছে। হামলার খবর এসেছে সৌদির প্রিন্স সুলতান এসারবেস থেকে। সেখানে মার্কিন বায়ুসেনার পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমানকে নিশানা বানিয়েছে তেহরান। বিমানগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যে পশ্চিম এশিয়ার অঞ্চলের সব দেশগুলিরই আর্থিক ক্ষতির বহর বাড়বে, তা ভালোই টের পাচ্ছে শিল্পমহল। ইতিমধ্যেই তেল, গ্যাস ও পর্যটন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁরা ট্রাম্প তথা আমেরিকার কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে সরব। তবে, একধাপ এগিয়ে খোলাখুলি সরব আল-হাবতুর। ‘বন্ধু’ ট্রাম্প আমিরশাহির এই ধনকুবের শিল্পপতির প্রশ্ন, ‘যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি কি মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মাথায় রেখেছিলেন? একথা কি আপনি বিবেচনা করেছিলেন, এই যুদ্ধ বিস্তৃত হলে সবার আগে পুড়ে মরবে উপসাগরীয় দেশগুলি? এই অঞ্চলের জনতার প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে, যুদ্ধটা কি আপনার একার সিদ্ধান্ত, নাকি নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত?’ আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে তাঁর তোপ, ‘গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল ও উপসাগরীয় দেশগুলির অমতেই তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন আপনি। আপনার কারণে আজ আমেরিকার মানুষ তাঁদেরই অর্থ ও করের টাকায় চলা যুদ্ধের বলি হচ্ছেন। ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজের হিসাব বলছে, এই যুদ্ধ চার-পাঁচ সপ্তাহ গড়ালে প্রত্যক্ষভাবে সামরিক অভিযানের খরচ দাঁড়াবে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। আর পরোক্ষে ক্ষতি ও আর্থিক ধাক্কার পরিমাণ হতে পারে ২১ হাজার কোটি ডলার।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ