সংবাদদাতা, বজবজ: ২৬ মে পর্যন্ত জাহাঙ্গির খানকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ওইদিন সেই রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকে বেপাত্তা জাহাঙ্গির। ফলতায় ডুবোগ্রামে তাঁর বিলাসবহুল বাড়িতে স্ত্রী ও মেয়ে ছাড়া কেউ নেই। তাহলে জাহাঙ্গির কোথায়? এই নিয়েই চর্চা এখন ফলতা, বজবজ, ডায়মন্ডহারবার জুড়ে। শুধু তাই নয়, যতদিন এগচ্ছে, ততই ফলতার হাসিমনগর, ফতেপুর, দিঘিরপাড়, সরারহাট, জগন্নাথপুরের নতুন রাস্তার মোড়, ফলতা কেল্লা সহ ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধারণ মানুষ জাহাঙ্গিরের গ্রেপ্তারের দাবি সরব হচ্ছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে হাইকোর্ট জাহাঙ্গিরকে তদন্তের প্রয়োজনে থানায় যেতে হবে বলেছিল, যখন তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত চলছে, সেই সময় কেন জাহাঙ্গিরকে ফলতা ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হল? এ নিয়ে ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডাকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিধায়কের কাছে প্রতিদিন ফোন আসেছে এনিয়ে।
জনসাধারণের একটাই প্রশ্ন, এখনও কেন জাহাঙ্গির জেলের বাইরে? কেন তাকে ধরা হচ্ছে না? বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, অনেকেই এই প্রশ্ন করছেন। কিন্তু পুরো বিষয়টি পুলিস ও প্রশাসনের হাতে। জাহাঙ্গিরকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর উপর আমাদের ভরসা আছে। এ কথাই ফলতার মানুষকে বলছি। বলেছি, ধৈর্য্য ধরুন।
প্রসঙ্গত, ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর দিন রাতে গণধোলাইয়ের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান জাহাঙ্গির। বেশ কয়েকদিন বেপাত্তা ছিলেন তিনি। কয়েকদিন পর পুলিশি বন্দোবস্তে বাড়ি ফেরেন। তবে ঘরের বাইরে আর বের হননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে পুলিস জানতে পেরেছে, ২৬ মে গভীর রাতে দু’টি ভাড়া গাড়ি নিয়ে জাহাঙ্গির ও তাঁর ছেলে কলকাতার দিকে চলে গিয়েছেন। এখন জাহাঙ্গিরের বাড়ি ছাড়াও কয়েকজন আত্মীয়ের উপর গোপনে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যে অবশ্য জাহাঙ্গিরের ‘ডানহাত’ বলে পরিচিত ভায়রাভাই সাইদুল খান এবং বঙ্গনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইসরাফিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, জাহাঙ্গিরকে ধরতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি এসটিএফও এখন ময়দানে নেমেছে। বেহালা, ঠাকুরপুকুর থেকে রাজারহাট, নিউটাউন, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে যেখানে জাহাঙ্গির নামে-বেনামে ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি, রিসর্ট কিনে রেখেছে, সে সব জায়গায় অভিযান চলছে। পাশাপাশি ইডি’র আতসকাচের নীচে এখন জাহাঙ্গির। কারণ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে তিনি কীভাবে নামে ও বেনামে কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন, তা নিয়ে ইডি’র কাছে প্রমাণ সহ অভিযোগ জমা পড়েছে। -ফাইল চিত্র