সংবাদদাতা, বোলপুর: বীরভূম জেলায় কেন এত নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে? বোলপুরে আইনি পরিষেবার শিবিরে বিচারক ও প্রশাসনের সামনে এমনই প্রশ্ন করল এক নাবালিকা। এই সেই নাবালিকা যে ২০২২ সালে নিজের বিয়ে রুখে দিয়েছিল। হাইকোর্টের বিচারপতিরা এদিন মেয়েটির প্রশ্ন শুনে তার প্রশংসা করেন। জেলাশাসক বিধান রায় ওই নাবালিকার সব প্রশ্নের উত্তর দেন। এমনকী, জেলায় নাবালিকাদের বিয়ে আটকাতে প্রশাসনের তরফে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি ওই নাবালিকাকে তার সাহসিকতার জন্য সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।
শনিবার, সকালে আইনি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করে ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি। শিবিরটি শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির খোয়াই হাটে হয়েছিল। শিবিরে ছিলেন স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির একজিকিউটিভ চেয়ারম্যান তথা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন। এছাড়া বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী, জেলাশাসক বিধান রায় সহ অন্যান্য জেলা ও মহকুমা আদালতের বিচারকরাও ছিলেন। সেখানেই প্রশ্নোত্তর পর্বে জেলা প্রশাসন ও বিচারকদের সামনে প্রশ্ন করে ওই নাবালিকা। সে বলে, আমি যে হোমে থাকি সেখানে দেখি আমার চেয়েও ছোট বাচ্চারা বিয়ে করে হোমে আসে। আমার প্রশ্ন, কেন বীরভূম জেলায় নাবালিকা বিয়ের এত প্রবণতা? কী কারণে এত নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে? এটা যদি একটু ব্যাখ্যা করেন? এরপর তার প্রশ্নের উত্তরে জেলাশাসক বলেন, বাল্যবিবাহের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, ভৌগলিক দিক সহ নানা কারণ রয়েছে। হাতের পাঁচটি আঙুল যেমন সমান নয়, তেমন অনেকের আর্থিক সঙ্গতিও সমান নয়। সেই কারণে অনেকে নাবালিকার বিয়ে দিতে চায়। মনে করেন পণ কম দিতে হবে। এগুলি দূর করার চেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত লড়াই চালাচ্ছি।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০২২ সালে ওই নাবালিকার বিয়ে ঠিক হয়। তখন সে সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। মেয়েটির মা মারা গিয়েছিলেন। বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় দাদু, ঠাকুমা নাতনির বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু বিয়ের খবর জানতে পেরে সাহস করে নিজের গৃহশিক্ষককে জানায় ওই নাবালিকা। এরপর শিক্ষক ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঠেকানো যায় বিয়ে। এরপর থেকে ওই নাবালিকা ও তার বোন শান্তিনিকেতনের এলমহার্স্ট ইনস্টিটিউটের নবীনা হোমে থেকে পড়াশোনা চালাচ্ছে। খেলাধুলা ও যোগাসনে আগ্রহী ওই নাবালিকা ভবিষ্যতে যোগাসন নিয়েই পড়াশোনা করতে চায়। ওই নাবালিকা প্রসঙ্গে জেলাশাসক সাংবাদিকদের বলেন, সাহসিকতার জন্য বাল্যবিবাহ দূরীকরণ ও তার প্রচারের ক্ষেত্রে ওকে অ্যাম্বাসেডর করার কথা ভাবছি।