নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাড়োয়া, শাসন, মিনাখাঁয় জমি দখলের অভিযোগ পুরানো। ব্যক্তিগত জমি থেকে সরকারি জমির চরিত্র বদল, ভেড়ি তৈরি থেকে নথিতে নাম বদল— বিভিন্ন সময়ে এমন নানা অভিযোগ উঠেছে। ভোটের আগে এই ইস্যুতে সরব হয়েছিল বিজেপি-সিপিএম। কিন্তু ভোট মিটে গেলেও জমি দখলের অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ কোথায়? প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের নেতৃত্বের একটি বড়ো অংশ দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের কারবার চালিয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান থেকে পঞ্চায়েতের সদস্যরা এই কারবারের মাথা। নামে-বেনামে তারা একাধিক সম্পত্তির মালিকও বটে। এলাকার মানুষ তাদের ‘জমি হাঙর’ বলেই চেনেন।
বারাসত ২ নম্বর ব্লকে হাড়োয়ায় জমি দখল করে একের পর এক ইমারত গড়ে উঠেছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান ও উপপ্রধানরাই, দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির নেতারাও। কোথাও আবার জমির চরিত্র বদলের পরে প্রশাসনের একাংশকে কাজে লাগিয়ে নথি পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ। আর জমি দখলকে ঘিরে টাকা লেনদেনের অভিযোগ কানপাতলেই শোনা যায়। স্থানীয়দের বক্তব্য, ভোটের প্রচারে এই জমি-দখলই ছিল বিরোধীদের অন্যতম হাতিয়ার। বিজেপি ও সিপিএমের নেতারা সভা-মিছিলে অভিযোগ তুলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই ব্যবস্থা হবে বলেই আশা করেছিল বাসিন্দাদের একাংশ। বর্তমানে বিজেপি সরকার গড়েছে বাংলায়। কিন্তু সেই জমি হাঙরদের গ্রেপ্তারির নজির কোথায়, প্রশ্ন স্থানীয়দের। শাসনের বাসিন্দা আজিজ খানের অভিযোগ, জমি দখলের প্রশ্নে তৃণমূলের প্রভাবশালীদের গ্রেপ্তারে কারও তৎপরতা চোখে পড়ছে না। তৃণমূল ও বিজেপি সেটিং হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। না হলে জমি মাফিয়ারা বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরছে কীভাবে? কীর্তিপুরের সাধন দে’র বক্তব্য, সরকার বদলালে কী হবে, তৃণমূলের মাফিয়ারাই এখন বিজেপির ঘরের ছেলে। না হলে জমি নিয়ে মানুষকে যেভাবে শোষণ বা অত্যাচার করা হয়েছে, তাতে কোনো প্রধান বা উপপ্রধানের বাইরে থাকা উচিত নয়।
এনিয়ে শাসনের সিপিএম নেতা কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ফুল সেটিং হয়েছে। যেহেতু আমাদের সংগঠন এখানে বেশি, তাই ওরা এখানে এক হয়েছে। মানুষের অধিকার ফেরাতে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও কাজ হচ্ছে না। অন্যদিকে, বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ৫০ বছরের ব্যাধি এত দ্রুত সারবে না। তৃণমূলের নেতারা যদি ভাবেন, মানুষকে শোষণ করে রেহাই পাবেন, তা হবে না। আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে। দোষ করলে জেলের ঘানি টানতে হবে, এটাই বিজেপির গ্যারান্টি। যদিও এনিয়ে তৃণমূলের নেতারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।