সংবাদদাতা, কালনা: বুধবার কালনার মুক্তারপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর কারা আসল বিজেপি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তরজা। এক পক্ষ আর এক পক্ষকে তৃণমূলী ও নব্য বিজেপি বলে তকমা দিয়ে চলছে কাদা ছোঁড়াছুড়ি। সংঘর্ষের ঘটনায় দু’ পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হলেন অপূর্ব মণ্ডল, উত্তম বালা ও বিমল পাত্র। সকলের বাড়ি মুক্তারপুরেই। বৃহস্পতিবার বিজেপির জেলা সহ সভাপতি ধনঞ্জয় হালদারের নেতৃত্বে কয়েকশো দলীয় কর্মী-সমর্থক রীতিমতো প্রমাণপত্র সহ কালনা থানায় অবস্থান বিক্ষোভ দেখান।
কালনায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কালনা বিধানসভায় বিজেপি দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একপক্ষ ঘোষিত প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদারকে মানছি না মানব না বলে রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়। শেষমেষ অবশ্য সিদ্ধার্থবাবু প্রার্থী হন। জয়লাভও করেন। বিজেপির সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও তলে তলে দ্বন্দ্ব থেকে যায়। সম্প্রতি কালনায় বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে চার নম্বর মণ্ডল সভাপতি গৌড় মণ্ডলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ হয়। তারপর থেকেই দলীয় কোন্দলে তেতে ওঠে কালনা, হাটকালনা ও কৃষ্ণদেবপুর অঞ্চল। বুধবার মুক্তারপুর এলাকার একটি ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠী (বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার গোষ্ঠী ও জেলা সহ সভাপতি ধনঞ্জয় হালদার গোষ্ঠী)-এর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। বেশ কয়েকজন জখম হন। বিধায়ক কালনা থানার সামনে তাঁর অনুগামী কর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। কালনা থানার এক পুলিশ অফিসারকে আঙুল উঁচিয়ে ধমকানি, চমকানিও দেন। কড়া ভাষায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, আপনি ঘটনাস্থলে গুণ্ডাগিরি করতে গিয়েছেন? না কি লোককে আটকাতে গিয়েছেন? একজন বিজেপি কর্মীর গায়ে হাত পড়লে ছেড়ে কথা বলা হবে না। ঘটনায় দলের একাংশ ও বিরোধীদের মধ্যে নিন্দার ঝড় ওঠে।
কালনা শহর কংগ্রেসের সভাপতি সুশান্ত গাইন বলেন, ‘ওদের সরকার ওদের পুলিশ। পুলিশের দিকে এভাবে আঙুল তুলে ধমকানো কাম্য নয়। আমরা এর নিন্দা করছি।’ তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘আমাদের সময় পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে। সরকার বদলে ওরা পুলিশকে দলদাস করতে চাইছে। সরকারের দু’ মাস কাটতে না কাটতে ওদের দাদাগিরির রাজনীতি বাংলার মানুষ দেখছে। আমার অনুরোধ, এলাকায় শান্তি বজায় রাখুন।’
বিজেপির কাটোয়া জেলা সহ সভাপতি ধনঞ্জয় হালদার বলেন, ‘তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের কর্মী সমর্থকদের রড, লাঠি, ইট ও অস্ত্র নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করেছে। থানায় অভিযোগ করা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের লোকদের গ্রেপ্তার করেছে। আহতদের মধ্যে বিজেপির শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ সহ ভোট প্রাক্কালে নির্বাচনী এজেন্ট ও দলীয় সদস্য পদ রয়েছে সকলের। আমরা মনে করি, যাঁরা এমনটি ঘটিয়েছেন তাঁরা তৃণমূলের দুষ্কৃতী। পুলিশকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। পুলিশ আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। প্রয়োজনে আগামীদিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে।’ বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু বলেন, ‘বিধায়কের সঙ্গে এখনও কোনও কথা হয়নি। মুক্তারপুরের ঘটনাটি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’