Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অজয়ের চর চুরি: মঙ্গলকোটে চরের মালিক কে? জানতে চেয়ে ভূমিদপ্তরকে চিঠি দিচ্ছে সেচদপ্তর

অজয়ের চর চুরি: মঙ্গলকোটে চরের মালিক কে? জানতে  চেয়ে ভূমিদপ্তরকে চিঠি দিচ্ছে সেচদপ্তর
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটের সাগিরা, কুরগ্রাম, মঙ্গলচণ্ডী সহ বিভিন্ন এলাকায় নদীপাড়ের চরে বড় বড় টানেল তৈরি করে মাটি লুট করা হয়েছে। জেসিবি দিয়ে মাটি কেটে তা পাচার করা হয়েছে। তদন্তে গিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের। মোটা টাকার বিনিময়ে অজয়ের চর বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে মাটি মাফিয়াদের কাছে। রাতারাতি সেই চর বিপজ্জনকভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে। অজয়ের চরের মালিক কারা, জানতে এবার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে চিঠি দিতে চলেছে সেচদপ্তর।

Advertisement

গুসকরাসার্কেলেরসেচদপ্তরেরঅ্যাসিস্ট্যান্টইঞ্জিনিয়ারসামসুলহকবলেন,আমরা মঙ্গলকোটেগিয়েসরেজমিনে দেখে এসেছি। বেশ কয়েকজন লোক নিজেদের চরের জমির মালিক বলে আমাদের কাছে দাবি করেছেন। তাঁরা এও বলছেন, নিজেদের জমির মাটি তাঁরা মাটি বিক্রি করেছেন। আমরা চরের জমির মালিকদের খোঁজে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে চিঠি দিচ্ছি৷ তবে যেভাবে মাটি কাটা হয়েছে, তাতে নদীর গতিপথটাই বদলে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলকোটের সাগিরা ও কুরগ্রাম মৌজারবাসিন্দাদের অভিযোগ, অজয় পাড়ে যেভাবে মাটি কাটা হয়েছে, তাতে জল বাড়লেই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। দেড়শো থেকে পাঁচশো মিটার পর্যন্ত নদী থেকে টানেল তৈরি করে মাটি লুট করা হয়েছে। কোথাও আবার বড় দিঘির মতো গর্ত করে নদীপাড়ের মাটি লুট করা হয়েছে। আর মাটি বোঝাই ট্রাক্টর যাতায়াতের ফলে গ্রামগুলির রাস্তাঘাট শেষ হয়ে গিয়েছে। বর্ষায় অজয় ছাপিয়ে গেলে কয়েকটি গ্রামের আর অস্তিত্বই থাকবে না। পুলিস প্রশাসন সব জেনেও নিশ্চুপ হয়ে রয়েছে। এর পিছনে যে শাসকদলের এক শ্রেণির নেতার মদত রয়েছে, তা গ্রামের বাসিন্দাদেরকথাতেই স্পষ্ট।
এ নিয়ে কয়েকদিন আগেই ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তার জেরে অবশেষে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০০ সালে বন্যায় অজয়েরগতিপথ বদলেছিল। তখন এলাকার বহু মানুষের জমি জমা বসতভিটে নদীগর্ভে চলে গিয়েছিল। এখন সেসব জমিতে চর পড়েছে। তাই এক শ্রেণির মানুষ সেই চর মাটি কারবারিদের কাছে নাকি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এমনটাই অভিযোগ তুলছে সেচদপ্তর।  
কিন্তু প্রশ্ন হল, অজয়ের পাড়ে চরের জমি বিপজ্জনক ভাবে কাটা যায় না। মাটি কাটতে  গেলে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনুমতি লাগে। অভিযোগ, মঙ্গলকোটের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের নজরদারির অভাবে মাটি কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও কাটোয়া মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক অর্পিতা দাস বলেন, আমি মাটি কারবারিদের বিরুদ্ধে বিএলআরওকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু এফআইআর করা হয়েছে কিনা জানি না। সাগিরা গ্রামের বাঁধের উপর দিয়ে কুরগ্রামের দিকে তাকালেই চোখে পড়বে মাটি মাফিয়াদের কীর্তি। এখনও জেসিবি মেশিনের দাগ স্পষ্ট রয়েছে। মাটি কাটতে কাটতে এক্কেবারে নদীর ধারে চলে গিয়েছে। কার্যত টানেল তৈরি হয়ে গিয়েছে। দেড়শো থেকে দুশো ফুট গভীর ও পাঁচশো মিটার লম্বা করে মাটি কেটে সাবাড় করে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ