সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্ব ঐতিহ্যের শহর বোলপুর-শান্তিনিকেতনের উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কে হবেন? তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে উঠেছে। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই এই স্বশাসিত সংস্থার চেয়ারম্যান পদ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শাসক দলের কোনো বিধায়ক এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে পারেন। সেই নিরিখে বোলপুর মহকুমায় বিজেপির একমাত্র জয়ী প্রার্থী লাভপুরের বিধায়ক দেবাশিস ওঝার নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে এসএসডিএর চেয়ারম্যান পদে ছিলেন বোলপুরের তৃণমূলের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই পদে নতুন মুখ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বিজেপি সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত এনিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও দেবাশিস ওঝার নাম ঘিরেই জোর গুঞ্জন চলছে। এদিকে প্রশাসনিক অচলাবস্থার জেরে কার্যত ধুঁকছে এসএসডিএ অফিস। ভোটের আগেই এক্সিকিউটিভ অফিসারের পদশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে শুধুমাত্র এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়েই চলছে অফিসের কাজকর্ম। তার মধ্যেই সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী ষাটোর্ধ্ব প্রায় আটজন কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কর্মী সঙ্কট আরও প্রকট হয়েছে বলে দাবি অফিস সূত্রের। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শহরের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প থমকে রয়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়ার পর শান্তিনিকেতনকে ঘিরে উন্নয়নের প্রত্যাশা আরও বেড়েছিল। বর্তমানে বোলপুর গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায় হকারদের পুর্নর্বাসনের জন্য ঘর তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। কবে তা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। ভুবনডাঙা মার্কেট এলাকাতেও দোকান ঘর তৈরির কাজ অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে। শ্যামবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় দোকানদারদের পুর্নর্বাসনের কাজের ভিত তৈরি হলেও তারপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। শুধু তাই নয়, বিল্ডিং প্ল্যান পাশ থেকে শুরু করে একাধিক প্রশাসনিক পরিষেবাও আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে সাধারণ মানুষের একাংশের তরফে। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে গঠিত এসএসডিএ বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকার নগরোন্নয়ন, রাস্তা, আবাসন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ পরিচালনা করে থাকে। বোলপুরের মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না বলেন, সদ্য নতুন সরকার গঠন হয়েছে। আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই চেয়ারম্যান পদে নতুন কেউ নিযুক্ত হবেন। এক্সিকিউটিভ অফিসার নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে। বাকি শূন্যপদ পূরণের বিষয়েও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অন্যদিকে, বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, আমাদের বিজেপির নতুন সরকার উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। শান্তিনিকেতনের মতো বিশ্ব ঐতিহ্যের শহরের উন্নয়ন যাতে থেমে না থাকে, সেই বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। আগের সরকারের ক্ষেত্রে এই পর্ষদকে ঘিরে যথেষ্ট অভিযোগ ছিল শহরবাসীর। তবে এবার স্বচ্ছভাবে বোর্ড কাজ করবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে কোনো দুর্নীতিকে ঠাঁই দেওয়া হবে না। এখন শহরবাসীর নজর একটাই, কবে এসএসডিএতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হবে।



