সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এসজেডিএ) নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নান্টু পাল, না মানিক অরোরা না কি বাপি গোস্বামী? রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে একাধিক নাম সামনে এসেছিল। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্যদের নামের তালিকা ছোটো হয়ে বর্তমানে বিজেপির অন্দরে মূলত এই তিন নেতার নামই ঘুরছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন নেতাই এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার জন্য রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। নান্টু পালের অনুগামীদের মতে, তিনি এসজেডিএ’র প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান, শিলিগুড়ি পুরসভার ডেপুটি মেয়র ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। কাজেই অভিজ্ঞতার নিরিখে প্রশাসনিক দক্ষতায় নান্টু পাল সবার থেকে এগিয়ে। অন্যদিকে, মানিক অরোরা ওরফে দীপঙ্করের অনুগামীদের দাবি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিজেপি প্রার্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি টিকিট পাননি। সেই সময় তাঁকে এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেই তাঁদের দাবি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত দীপঙ্কর দীর্ঘদিন বিজেপির সাংগঠনিক কাজ করার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। নান্টু পালের মতো কোণঠাসা হয়ে তৃণমূল ছাড়েননি দীপঙ্কর অরোরা। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন।
এদিকে, বিজেপির একাংশের মতে শিলিগুড়ি মহকুমায় দলের তিন বিধায়কের মধ্যে দু’জন মন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়া বিধায়কদের উপর দলের যে অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে তাতে তাঁদের পক্ষে এসজেডিএ সামলানো সম্ভব নয় বলেই বিধায়কদের কাউকে এসজেডিএ’র দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে না। বিজেপির এক রাজ্য নেতা বলেন, জলপাইগুড়ি থেকে দলের কোনো বিধায়ক মন্ত্রী হননি। তাই জলপাইগুড়িকে সন্তুষ্ট করতে দলের পুরোনো রাজ্য নেতা বাপি গোস্বামীকেও এসজেডিএ’র সম্ভাব্য চেয়ারম্যানের তালিকায় রাখা হয়েছে।
যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউই প্রকাশ্যে এনিয়ে কিছু দাবি করছেন না। দীপঙ্কর অরোরা বলেন, আমি দলের কর্মী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছি। দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটাই পালন করব। নান্টু পালের কথায়, আমাকে এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান করার কথা শুনছি। দল ঘোষণা না করা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এবিষয়ে বাপি গোস্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।