নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: টিকিট পাবেন একজন, দাবিদার অনেক। সামনে কিছু না বললেও প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা মনে পুষে রেখেছেন অনেকে। তাই জট কাটিয়ে হিসেব মেলাতে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ করল বিজেপি। গেরুয়া পার্টির বঙ্গ পর্যবেক্ষক মঙ্গল পান্ডের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এই পর্ব চলে ইংলিশবাজারের এক নামী হোটেলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সমস্ত স্তরের পদাধিকারীরা।
ইংলিশবাজার, মালদহ, হবিবপুর এবং গাজোল বিধানসভা বিজেপির দখলে। ইংলিশবাজার এবং গাজোলে বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে দলীয় স্তরেই নানা ক্ষোভ আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা বারবার বেআব্রু হয়েছে। কাজেই তাঁদের এবারও প্রার্থী করা নিয়ে দলের অন্দরেই যে দ্বিমত আছে, তা বলাই বাহুল্য।
কিন্তু আসন্ন বিধানসভা ভোটে কাকে প্রার্থী করা ঠিক হবে, সেই পছন্দ জানতে মতামত গ্রহণ করা হয়। বিকেল তিনটে থেকে শুরু হয়ে এক ঘন্টা ধরে চলে এই প্রক্রিয়া। গোপনীয়তা বজায় রাখতে চারটি বিধানসভার জন্য আলাদা আলাদা কক্ষ করা হয়। প্রার্থী বাছাই পর্বের জন্য প্রত্যেক ভোটদানকারীকে মোবাইল নির্দিষ্ট স্থানে জমা রেখে তারপর মত প্রকাশ করতে হয়। বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা আলাদা ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছিল। প্রত্যেক ভোটদাতাকে এমনভাবে বসানো হয়, যাতে তাঁরা প্রার্থীর নাম নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনোরকম আলোচনা করতে না পারেন।
এখানে মণ্ডল থেকে শুরু করে বিধানসভা এবং জেলাস্তরের সমস্ত পদাধিকারী ব্যালটে মতপ্রকাশের সুযোগ পান। পার্টির বিভিন্ন মোর্চার পদাধিকারীদেরও সুযোগ দেওয়া হয়। প্রত্যেকের হাতে একটি করে ব্যালট পেপার দেওয়া হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ লেখার জায়গা দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। যেমন কোনো পদাধিকারী ব্যালটে নিজের নাম লিখতে পারবেন না। প্রার্থী হিসেবে পছন্দের যে তিনজনের নাম লিখেছেন, তা গোপন রাখতে হবে।
পুরো প্রক্রিয়া হয় মঙ্গল পাণ্ডের উপস্থিতিতে। এরপর ব্যালট ভরে তিনটি স্টেপলার দিয়ে খামের মুখ বন্ধ করে বাক্সে ফেলতে হয়। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যালট বাক্সে থাকা এই মুখবন্ধ খাম চলে যাবে দিল্লিতে। সেখানে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সামনে খাম খোলা হবে। এই প্রক্রিয়া কি শুধুমাত্র মালদহের চারটি জেতা আসনের জন্যই? দলের এক রাজ্যনেতা বলেন, আগে মালদহের বাকি আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতিতে দেশের প্রাক্তন মন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরীর উপস্থিতিতে গোপন ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নাম নেওয়া হয়েছিল।
বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এটা সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এনিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।



