ডিম-থেরাপির কবলে বিজেপি নেতারাই, তোলপাড় বীরভূমের পাড়ুই, তদন্তের নির্দেশ বিব্রত জেলা সভাপতির
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বাংলায় ‘ডিম থেরাপি কালচার’ বুমেরাং হয়ে ফিরল বিজেপি নেতাদেরই উপর! কিন্তু, শাসন ক্ষমতায় থেকেও এত তাড়াতাড়ি ডিম থেরাপির অভিঘাত এভাবে আছড়ে পড়বে, তা বোধহয় ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি বীরভূম জেলার দুই বিজেপি নেতা। পালাবদলের পর রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের কর্মীদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘এসব সংস্কৃতি বিজেপি অনুমোদন করে না। ডিমের অভিমুখ একদিন আপনাদের দিকেও ঘুরে যেতে পারে।’ মঙ্গলবার বিকেলে শমীকের এই ভবিষ্যৎবাণী মিলে গেল অক্ষরে অক্ষরে!  পাড়ুই থানার কেন্দ্রডাঙাল গ্রামে দলীয় কর্মীদের একাংশের হাতেই ‘ডিম-দাওয়াই’ খেলেন বিজেপি নেতারা।  

Advertisement

জানা গিয়েছে, বিজেপি ও তৃণমূলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বৈঠকের খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন বিজেপিরই একাংশ কর্মী-সমর্থক ও কয়েকজন গ্রামবাসী। শুরু হয় বিক্ষোভ। তার মধ্যেই বৈঠকে হাজির বিজেপি নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। বুধবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য মণ্ডল সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গ্রামের একটি ঘরে বিজেপির দুই নেতা তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপির কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁদের সঙ্গে জড়ো হন গ্রামবাসীদের একাংশ। এরপরই বৈঠক ঘিরে বচসা ও বিক্ষোভ শুরু হয়। বৈঠকে থাকা নেতাদের ঘরের ভিতরে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ। খবর পেয়ে পাড়ুই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে বিজেপি নেতা ও তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ওই এলাকার এক বুথ সভাপতি এবং একটি অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। বিজেপির বিক্ষুব্ধ অংশের অভিযোগ, এর আগেও স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার সঙ্গে ওই দুই নেতাকে একাধিকবার দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সতর্ক করা হলেও তাঁরা তা কানে তোলেননি। এলাকার বাসিন্দা তথা বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার সহ-সভাপতি শেখ আজমত আলি বলেন, এটাই প্রথমবার নয় এর আগেও তারা তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। কালকে ঘটনার পর পুরো বিষয়টি আমরা দলকে জানিয়েছি। আশা করছি তাদের এই ধরনের কাজকর্মের জন্য দল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগের মুখে থাকা এক বিজেপি নেতা অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আমাদের আর এক বিজেপি নেতাকে মারধর করা হয়েছে, এই খবর পেয়ে আমি এলাকায় গিয়েছিলাম। এর বেশি কিছু নয়। তৃণমূলের সঙ্গে কোনো যোগসাজশ নেই। পুরো বিষয়টি মিথ্যাভাবে রটানো হচ্ছে।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, বিজেপির লোক বিজেপিকে ডিম ছুঁড়ছে মানে বিজেপির কেউ ভুল করছে। এই ভুলটি কার, সেটি দেখার জন্যই আমি মণ্ডল সভাপতিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাঁকে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি।