অর্ণবের প্রভাবে ৭২ ঘণ্টা বৃষ্টির পূর্বাভাস উত্তরবঙ্গে, পাহাড়ে তুষারপাতের সম্ভাবনা
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টা বৃষ্টির সম্ভাবনা উত্তরবঙ্গে। আজ, বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত পাহাড়-সমতলে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ের উঁচু উপত্যকায় হতে পারে তুষারপাত। বুধবার এমন পূর্বভাস ঘোষণা করেছে আবহাওয়া দপ্তর। তাই পাহাড়ে ধস এবং সমতলে পাকা ধান ও সবজির ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির প্রায় ২৫ হেক্টর জমির পাকা ধান কাটা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে কন্ট্রোলরুম খুলেছে শিলিগুড়ি পুরসভা।

Advertisement

অন্যান্য দিনের মতো এদিনও শিলিগুড়ির আকাশ ছিল রোদ ঝলমলে। রোদের তাপও ছিল মারাত্মক। দুপুরের পর থেকেই আকাশে মেঘ জমলেও বৃষ্টি হয়নি। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে এখানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক তথা আবহাওয়াবিদ রঞ্জন রায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে পাহাড় ও সমতলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিকিমের উঁচু উপত্যকায় এবং দার্জিলিংয়ের সান্দাকফুতে তুষারপাত হতে পারে। এমন আবহাওয়া চলবে শনিবার পর্যন্ত। রবিবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এতে শীতের প্রভাব কিছুটা বাড়বে।
আবহাওয়া দপ্তরের এমন পূর্বাভাস পেয়েই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। এদিন উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রের খবর, বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে ধস নামতে পারে। তাই ধসপ্রবণ এলাকাগুলির উপর নজর রাখা হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স, এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ টিম প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সতর্ক রয়েছে।
এদিকে, সমতলে জমিতে এখন ধান ও শীতের সবজি রয়েছে। বৃষ্টিতে পাকা ধানের ক্ষতি হতে পারে। কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, শিলিগুড়ি ও  জলপাইগুড়িতে প্রায় ২৫ হেক্টর জমি থেকে পাকা ধান কাটা হয়েছে। বৃষ্টির জল যাতে না দাঁড়াতে পারে, সেজন্য বাকি জমিতে নালা কাটা, সবজির ফলন ঠিক রাখতে মাচাগুলি শক্তপোক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বৃষ্টি হলেই শিলিগুড়ি শহরের নীচু এলাকাগুলিতে জল জমে যায়। তাতে মশার আঁতুড়ঘর তৈরি হয়। শিলিগুড়ি পুরসভার কমিশনার বন্দভাসী তেজা দীপক বলেন, বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়েই ২৪ ঘণ্টার জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম ছটপু঩জো পর্যন্ত চালু থাকবে। জমা জল বের করা, মশার আঁতুড়ঘর ধ্বংস করায় আরও জোর দেওয়া হবে।