নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উদ্ভাবন এখন স্রেফ বিশ্ববিদ্যালয় বা স্বাধীন গবেষণাকেন্দ্রগুলিতে সীমাবদ্ধ নেই। কলেজস্তরেও বেশ কিছু উচ্চমার্গের উদ্ভাবনী প্রকল্পের কাজ চলছে। তার অন্যতম উদাহরণ, স্কটিশ চার্চ কলেজ। কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তিন ছাত্র সাগ্নিক চক্রবর্তী, শৌর্য সরকার এবং সায়ন সাহা ‘হোয়াইট বক্স’ নামে একটি গবেষণা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল, স্মার্ট গাড়ির তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা।
এই প্রকল্পে হার্ডওয়্যার, ব্লকচেন পদ্ধতি এবং উন্নত ক্রিপ্টোগ্রাফির সংমিশ্রণে বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে স্মার্ট গাড়ি ও গাড়ির ইলেকট্রনিক ডেটা লগিং সিস্টেমের তথ্য চুরি ঠেকানো যাবে। আবার দুর্ঘটনার কারণ এবং গভীরতা বিশ্লেষণ, বিমার দাবি সংক্রান্ত কাজ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও সুষ্ঠুভাবে করা যাবে। এই প্রজেক্টটি কলেজের ইনোভেশন সেন্টারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, এই কলেজের প্রাক্তনী গৌতম দেবনাথের কে ডি স্টেম ফাউন্ডেশনের তরফে পুরস্কৃত হয়েছে। তিনি নরওয়ের অসলোভিত্তিক একটি সংস্থার চিফ বিজনেস অফিসারও বটে। তিন ছাত্র এক লক্ষ টাকা পেয়েছেন গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সফল হলে এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আশাবাদী কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তবে এখানেই থেমে নয় এই কলেজের উদ্ভাবন চর্চা। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তিন ছাত্রী সাফিনা পাল, অস্মিতা মণ্ডল ও অনসূয়া ভৌমিকও খুবই উপযোগী একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করছেন। তাঁরা তৈরি করছেন ‘বায়োশিল্ড প্যাচ’ নামে একটি জিনিস। সেটি ফসল এবং গাছের রোগ, পোকা এবং কীট আক্রমণের প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপযোগী এই জৈবপ্রযুক্তি। এর পাশাপাশি কলেজের পড়ুয়ারা ‘আলফা ডক’ নামে একটি মানব-এআই ইকো সিস্টেম তৈরি করছে। ওষুধ আবিষ্কারের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং কার্যকর করে তুলতে পারে এই ব্যবস্থা। কলেজের অধ্যক্ষা মধুমঞ্জরী মণ্ডল বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ুয়াদের নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবনই আগামী দিনে স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে পথ দেখাবে।’
এই কলেজের অগিলভি হস্টেলকে অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে রূপান্তর করেছে কর্তৃপক্ষ। স্নাতক স্তর এখন চার বছরের। তাছাড়া নতুন কোর্স খোলার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। তাই স্থান সংকুলানের কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আর সেখানে খোলা হয়েছে একটি ইনোভেশন তথা ইনকিউবেশন সেন্টার। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা আরও উদ্ভাবনমুখী হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্র।