


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন প্রাইভেট হাসপাতাল ও নার্সিংহোম তৈরির সময় সরকারের কাছ থেকে জমি-জায়গা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, তার খোঁজ করছে ক্ষমতায় আসা নতুন রাজ্য সরকার। সম্প্রতি কলকাতার বেশ কয়েকটি বড়ো হাসপাতাল গোষ্ঠীর কর্তাদের এবং রাজ্যের ছোটো-মাঝারি নার্সিংহোমগুলির সংগঠনের পদাধিকারীদের ডেকে পাঠায় স্বাস্থ্যভবন। তাঁদের সাফ সাফ জানানো হয়, যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে জমি জায়গা এবং অন্যান্য সুবিধা পেয়েছে, তাদের চুক্তি মোতবেক মোটামুটি একটি বিষয় নির্দিষ্ট। সেটি হল—১০ শতাংশ ইন্ডোর এবং ২০ শতাংশ আউটডোর রোগীকে নিখরচায় চিকিৎসা দিতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথীর জায়গায় আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প লাগু হওয়ার কথাও ওইদিন জানিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই পিজি হাসপাতালে শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আধিকারিকদের জানান, সরকারি হাসপাতালে বেড-সংকট মেটাতে শীঘ্রই কেন্দ্রীয়ভাবে বেড পুল করা হবে। তাতে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের মোট বেড ধরা হবে। পাশাপাশি রাজ্যে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের অধীন হাসপাতাল—যেমন রেল, পোর্ট, ইএসআইসি’র বেডও ধরা হবে। এছাড়া ওই পুলে থাকবে সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির বেডের একাংশ। শেষোক্ত পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত করতে হলে, জানতে হবে কোনগুলি ও কতগুলি প্রাইভেট হাসপাতাল ও নার্সিংহোম সেই তালিকায় পড়ে। সে-কারণেই বৈঠক ডাকা হয় বলে স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ বিষয় নিয়ে বিগত জমানাতেও মাঝেমধ্যে ফাইল নড়াচড়া হয়েছে। উৎপল রায় নামে দক্ষিণ কলকাতার এক সমাজকর্মী ২০২০ এবং ২০২১ সালে লাগাতার আরটিআই করে তৃণমূল সরকারের কাছে জানতে চান রাজ্যের কতগুলি প্রাইভেট হাসপাতাল-নার্সিংহোম তৈরির সময় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়। চুক্তিপত্রে উল্লেখিত নিখরচার বেডগুলিতে কতজন গরিব রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। উত্তরে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
জানা গিয়েছিল, বাম জমানায় ৪৫টি প্রাইভেট হাসপাতাল তৎকালীন সরকারের কাছে জমি ও নানা সুবিধা পেয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে ১৭টি হাসপাতালের চুক্তিপত্রের ফাইলই নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না (আরটিআইয়ের ভাষায়, ‘ফাইলস নট রেডিলি ট্রেসেবল’)। শুধুমাত্র চুক্তির শর্ত হিসেবেই নয়, ক্লিনিক্যাল এসট্যাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট (রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি) ২০১৭ অনুযায়ীও সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রাইভেট হাসপাতালগুলি ১০ শতাংশ ইন্ডোর এবং ২০ শতাংশ আউটডোর রোগীকে নিখরচায় চিকিৎসা দিতে বাধ্য।
এ বিষয়ে রবিবার অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার শীর্ষকর্তা রূপক বড়ুয়া বলেন, বৈঠক হয়েছে। আমরা জানতে চেয়েছি, সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রাইভেট হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলির এই ১০ শতাংশ ইন্ডোর বেড ভাড়া ফ্রি হবে, নাকি সমস্ত পরিষেবাই নিখরচায় দিতে হবে? সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হবে।