Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিষেককে আক্রমণের সময় সাংসদ, বিধায়করা কোথায়? সুযোগসন্ধানীদের চিহ্নিত করা হোক, প্রস্তাব উঠল তৃণমূলেই

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর যখন হামলা হচ্ছে, তখন দলের বড়ো অংশের নেতা-নেত্রীরা কোথায়?

অভিষেককে আক্রমণের সময় সাংসদ, বিধায়করা কোথায়? সুযোগসন্ধানীদের চিহ্নিত করা হোক, প্রস্তাব উঠল তৃণমূলেই
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর যখন হামলা হচ্ছে, তখন দলের বড়ো অংশের নেতা-নেত্রীরা কোথায়? লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের ৪২ জন সংসদ রয়েছেন। তাঁরা কোথায়? এমনকি সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। সেই বিধায়কদের মধ্যে বড়ো অংশই কেমন যেন নিরুত্তর! এই গোটা ঘটনা দেখে তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতা মন্তব্য করেছেন, ‘অবিলম্বে এই সুযোগ সন্ধানীদের চিহ্নিত করা হোক। দল যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দলের কাউকে সাংসদ, বিধায়ক, পুরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার পদ দেওয়া হয়েছিল। এখন কঠিন পরিস্থিতিতে ওই নেতারা যদি দলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন, সেটা দল-বিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য।’ 

Advertisement

শনিবার সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই কর্মসূচি পূর্বঘোষিত। ফলে আগে থেকে যখন অভিষেকের কর্মসূচি জানা ছিল, তখন দলের বড়ো অংশের নেতা-নেত্রীদের সোনারপুরে কেন দেখতে পাওয়া যায়নি সেই প্রশ্নটা উঠেছে। অভিষেক যখন যাবেন, সেটা আগাম থাকা খবর পেয়ে তৃণমূলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উচিত ছিল ওই অঞ্চলে পৌঁছে যাওয়া। কিন্তু কেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সোনারপুরে দেখতে পাওয়া যায়নি, সেই প্রশ্নটা উঠেছে। এছাড়া অভিষেকের উপর যখন হামলার ঘটনা ঘটল, সেই খবর পেয়েও তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা কেন ছুটে গেলেন না ঘটনাস্থলে, দলের অন্দরে সেই প্রশ্নটাও উঠেছে। 
তৃণমূলের কয়েকজন নেতা বলছেন, অভিষেককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হল। তখন হাসপাতালে ছুটে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মমতার আশেপাশে এক-দুজন নেতা ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায়নি! কলকাতার নেতা-নেত্রীরা শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কোথায় ছিলেন? কেন মমতা, অভিষেকের পাশে ছুটে গেলেন না? আরো তাৎপর্যপূর্ণ হল, অভিষেকের উপর হামলার ঘটনার পর তৃণমূলের প্রথম সারির অনেক নেতা-নেত্রীদের প্রতিবাদ জানাতেও অনীহা দেখা গিয়েছে। ওই নেতা-নেত্রীরা তো পারতেন সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে। গুটিকয়েক নেতা যখন ফেসবুক, এক্স মাধ্যমে পোস্ট করলেন, ততক্ষণে কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। 
তৃণমূলের তরফে আগেই আওয়াজ তোলা হয়েছে, ‘ছাত্র-যুবদের নয়নের মণি অভিষেক।’ প্রশ্নটা এখানেই, ছাত্র-যুবরা কোথায় ছিলেন দলের সেনাপতির উপর যখন আক্রমণ হচ্ছে? রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতেও দেখা যায়নি ছাত্র-যুব নেতাদের। সেখানে চুঁচুড়া থেকে কামারহাটি—প্রবীণ নেতাদেরই রাস্তায় নামতে গিয়েছে। 
ফলে কঠিন সময়ে যে সমস্ত নেতারা দলের পাশে ছিলেন না, তাঁদের ‘সুযোগ সন্ধানী’ বলে চিহ্নিত করেছেন দলেরই একটি অংশ। ওই ‘সুযোগ সন্ধানীদের’ আচরণ দেখে দলও যেন সঠিক পদক্ষেপ করে, সেই প্রস্তাব তুলেছেন দলের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, ‘সময়’ বলে দেয়, কারা দলের স্বার্থে নিবেদিত।

সম্পর্কিত সংবাদ