নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তরুণ প্রজন্মের নেতাদের আসন বারবার কেন বদল করা হচ্ছে? বিধানসভা ভোটের পর এই প্রশ্ন উঠেছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ভিতরে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদ্য সমাপ্ত বৈঠকে নেতাদের একাংশের বক্তব্য ছিল, হঠাত্ একজনকে নতুন জায়গায় প্রার্থী করলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার চেয়ে কোনো নেতাকে নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচবছর রেখে কাজ করালে লাভ পাওয়া যাচ্ছে। এর উদাহরণ হিসেবে ডোমকলের উল্লেখ করেন নেতারা। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই মুহূর্তে ওই পথেই হাঁটতে চাইছে আলিমুদ্দিন। এখনও পর্যন্ত যে প্রার্থী যেখানে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের সেখানেই লড়াই-আন্দোলনে দেখা যাচ্ছে।
সিপিএমে প্রার্থীদের আসন বদল নিয়ে বিরোধী দলগুলি কটাক্ষ করেছিল ভোটের সময়। দীপ্সিতা ধর ২০২১ সালে বালিতে প্রার্থী হয়েছিলেন। তারপর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে শ্রীরামপুর। তারপর ২০২৬ সালে দমদম উত্তর। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম, এবার উত্তরপাড়া। সৃজন ভট্টাচার্য ২০২১ সালে সিঙ্গুরে। আবার ২০২৪ সালে যাদবপুরে। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৪ সালে তমলুক, এবার মহেশতলা। অনেকের বক্তব্য, প্রতিবারই ভোট মেটার পর প্রার্থীদের আর সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা যায়নি। যদিও ২০২৬ সালের ভোটের পর দেখা যাচ্ছে, পূনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিরাটিতে দীপ্সিতা ধর, কলতান দাশগুপ্ত সোদপুরে, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ব্যান্ডেল স্টেশনে আন্দোলনে নেমেছেন। তবে কি প্রার্থী বদল নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন? আন্দোলনে থাকা এক প্রার্থীর কথায়, ‘এখনই ঠিক সেভাবে বলার সময় আসেনি। পার্টি যেখানে বলছে সেখানে লড়াই আন্দোলনে আছি। মূল বিষয়টা তো হকারদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করা।’ রাজ্যের এক নেতার কথায়, ‘বিষয়টা আমরা ঠিক এভাবে দেখছি না। আসন বদলের ঘটনা কয়েকটা ক্ষেত্রে ঘটেছে। সাধারণভাবে এলাকার লোকেরাই সেখানে প্রার্থী হয়ে থাকেন। সেটাই হলেই তো ভালো।’