রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ভোটের প্রচারে এসে বলেছিলেন যেখানে বেশি ভোট পাব সেখানে আগে উন্নয়ন হবে। পরে বাকি বুথে। ভোটে জেতার পর মন্ত্রী হয়েছেন কুমারগ্রামের এমএলএ মনোজ ওরাওঁ। ভোট পরবর্তী সমীক্ষার পর ধরা পড়েছে তাঁর বিধানসভা এলাকার অধিকাংশ বুথেই ভাল ভোট পেয়েছেন তিনি। তবে প্রথম থেকে ছ’টি বুথকে আলাদা করে প্রতিশ্রুতি মতো উন্নয়ন কাজ শুরু করবেন। সব এলাকার উন্নয়ন হলেও কাজ শুরুর অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকছে ওই ছ’টি বুথ। এ জন্য ইতিমধ্যে দু’টি বুথে তিনি ঘুরেও এসেছেন। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, বাকি বুথের ভোটারদের কথায়, বিধায়ক-মন্ত্রী তো সকলের। তাহলে এই বৈষম্য কেন? যদিও মন্ত্রী মনোজবাবু বৈষম্যের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কুমারগ্রাম বিধানসভায় ৩১৮টি বুথ। এবার বিধানসভা ভোটে মনোজ ওরাওঁ তৃণমূল প্রার্থীকে ৫২ হাজার ৮৭৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রী হয়ে শপথ নিয়ে এলাকায় ফিরে ওই ছ’টি বুথের মধ্যে দু’টি বুথে ঘুরেও এসেছেন মনোজবাবু। বর্তমানে তিনি কলকাতায়। সেখান থেকে ফিরে বাকি চারটি বুথে যাবেন বলে মঙ্গলবার টেলিফোনে জানিয়েছেন।
এদিকে, মন্ত্রী না মানলেও সিপিএমের আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, মন্ত্রীর ওই কথায় অবশ্যই বৈষম্য আছে। কারণ যে বুথে ভোট বেশি সেই বুথেই প্রথম উন্নয়নের কাজ শুরু করব, এভাবে একজন জনপ্রতিনিধির বলা উচিৎ নয়। কারণ মন্ত্রী-বিধায়ক তো সকলের। মন্ত্রী বরং বলতে পারতেন, তাঁর এলাকায় তিনি প্রথম অমুক প্রকল্পের কাজটি শুরু করবেন। তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, আমি এনিয়ে কিছু বলব না। কারণ আমি তো এখন দলের কোনো কমিটিতে নেই।
যদিও মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন, আমার ওই কথায় বিতর্ক আসছে কোথা থেকে বুঝতে পারছি না। ভোটের আগে বলেছিলাম ভাল লিড পাওয়া এরকম ছ’টি বুথে প্রথম আমি আমার এমএলএ ফান্ডের অর্থ দিয়ে উন্নয়নের কাজ শুরু করব। তারপরে সব বুথেই কাজ করা হবে। আমি অবশ্যই সবার বিধায়ক, মন্ত্রী। তাহলে এই বৈষম্যের বিতর্ক আসছে কোথা থেকে? এদিকে, মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কোন বুথে প্রথমে কি উন্নয়নের কাজ হবে তা ঠিক করবেন সংশ্লিষ্ট বুথের বাসিন্দারা। তারপরেই অর্থ বরাদ্দ হবে। এভাবেই বিধানসভার সব বুথে এমএলএ ফান্ডের টাকায় কাজ হবে। উল্লেখ্য, ৩১৮টি বুথের মধ্যে ১ নম্বর মণ্ডলের ৫০ নম্বর, ২ নম্বর মণ্ডলের ১১ ও ৫৩ নম্বর, ৩ নম্বর মণ্ডলের ১১২, ৫ নম্বর মণ্ডলের ২৪৯ এবং ৬ নম্বর মণ্ডলের ১৩৩ নম্বর বুথে ভালো লিড পান মনোজ ওরাওঁ।