সংবাদদাতা, করিমপুর: আষাঢ় মাস প্রায় শেষের পথে। অথচ এখনও জোরালো বর্ষার দেখা নেই। বৃষ্টির অভাবে খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত জল জমেনি। ফলে পাট কাটার মরশুম ঘনিয়ে এলেও ফসল জাঁক দেওয়ার জল কোথায় মিলবে, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন করিমপুরের চাষিরা। এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল পাট হওয়ায় অনাবৃষ্টির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে চাষিদের মধ্যে। চাষিরা জানান, সাধারণত চৈত্রের প্রথম দফার বৃষ্টির জলেই পাটের বীজ বোনা হয়। কিন্তু এ বছর সেই সময় বৃষ্টি না হওয়ায় অনেককেই সেচের জলের উপর নির্ভর করে বীজ বুনতে হয়েছে। এরপরও প্রয়োজন মতো বৃষ্টি হয়নি। অথচ অনেক জমিতে পাট কাটা শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় জল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। করিমপুরের চাষি নজরুল মণ্ডল জানান, বৃষ্টির অভাবে চৈত্র-বৈশাখে সেচের জল দিয়ে পাটের বীজ বুনতে হয়েছে। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাট কাটা শুরু হবে। তার আগে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে পাট জাঁক দেওয়া নিয়ে বড়ো সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাঁর। হোগলবেড়িয়ার চাষি রমেন সরকার বলেন, গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর অনেক বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। কিন্তু এখন জলাভাব দেখা দেওয়ায় এত পরিমাণ পাট জাঁক দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আগে এই সময়ে খাল, বিল, নদী ও পুকুরে যথেষ্ট জল থাকত। এখন বৃষ্টি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ জলাশয়ই শুকিয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক চাষি পাটের জমিতেই গর্ত করে সেচের জল দিয়ে পাট জাঁক দিচ্ছেন। আবার অনেককে দূরের জলাশয়ে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে পরিবহণ খরচ, শ্রমিকের মজুরি এবং জলের ভাড়া সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।



