মালদহে বিমানবন্দর কবে? জবাব নেই বিজেপি এমপির
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: আদৌ মালদহে কবে মিলবে বিমানবন্দর, জবাব নেই উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর। এনিয়ে তাঁর বক্তব্য, মালদহে বিমানবন্দর করার ক্ষেত্রে জমির সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। কয়েকটি বিকল্প জায়গা দেখা হয়েছে। তবে জমি জট কাটিয়ে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে মালদহবাসী বিমানবন্দর পাবেন কি না তা জোরের সঙ্গে বলতে পারেননি বিজেপি সাংসদ। যদিও তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চান, মালদহে দ্রুত বিমানবন্দর হোক। ফলে জেলায় বিমানবন্দর হবেই। 

Advertisement

মালদহ শহরের ৩ কিমি দূরে বর্তমানে যে বিমানবন্দর রয়েছে, সেটি ১৯৮২ সালে গনি খান চৌধুরী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন চালু হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মুখ থুবড়ে সেটি। এর পর থেকে বহুবার বিমানবন্দর চালুর কথা বলা হলেও তা হয়নি। তৃণমূল সরকারের আমলে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে মালদহ বিমানবন্দরের জমি লিজ নেওয়া হয়। পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিমানবন্দরের জমি লিজ নেওয়া হলেও আগের সরকারের আমলে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। 
রাজ্যে পালাবদলের পর মালদহে বিমানবন্দর চালু করতে ফের তৎপরতা শুরু হয়েছে। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি জট। বর্তমানে যেখানে বিমানবন্দর রয়েছে, সেখানে রানওয়ে যথেষ্ট নয়। ফলে ১৯ সিটের বিমান নামতে পারলেও ৭২ আসনের উড়ান বর্তমান পরিকাঠামোয় অসম্ভব, স্বীকার করছেন বিজেপির জনপ্রতিনিধিরাই। আর এখানেই তৈরি হয়েছে সমস্যা। কারণ, বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের একাংশ চাইছেন, বর্তমানে যেখানে বিমানবন্দর আছে, পরিকাঠামো উন্নত করে সেখানেই উড়ান পরিষেবা চালু করা হোক। কিন্তু বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের অপর অংশ বিমানবন্দরের জন্য নতুন জায়গা খোঁজার পক্ষপাতি। 
সম্প্রতি পুরাতন মালদহ ও গাজোলের সীমানায় বিমানবন্দরের জন্য একটি জায়গা পরিদর্শন করেন উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। পরিদর্শনের পর তিনি দাবি করেছিলেন, গ্রিন ফিল্ড এয়ারপোর্টের জন্য যে এক হাজার একর জায়গা প্রয়োজন তা এখানে পেতে অসুবিধা হবে না। যদিও ওই জায়গা নিয়েও এখন কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাংসদ খগেন মুর্মু নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন, পুরাতন মালদহের ভাবুক অঞ্চলের পশ্চিম বাঞ্জাপাড়া এলাকায় বিমানবন্দরের জন্য উত্তর মালদহের সাংসদ যে জমি দেখেছিলেন, সেখানে প্রায় সাতশো পরিবারের বাস রয়েছে। ফলে এতগুলো পরিবারকে কোথায় সরানো হবে, সেটা একটা চিন্তার বিষয়। তবুও ওই জায়গা নিয়ে জেলা প্রশাসনকে রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে বলে দাবি সাংসদের। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আগে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা এসে কয়েকটি জায়গা দেখেছিলেন। বর্তমানে ওই জায়গাগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উত্তর মালদহের সাংসদের বক্তব্য, নতুন জায়গা যেমন দেখা হচ্ছে, তেমনই বর্তমানে যেখানে এয়ারপোর্ট আছে, সেখানে কীভাবে আরও জমি অধিগ্রহণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ইংলিশবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, এখন যেখানে এয়ারপোর্ট রয়েছে, সেখানেই উড়ান চালু হবে।