Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কবে আসবেন ভিসি? জানেই না উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

শেষ সমাবর্তন হয়েছিল ২০১৮ সালে। তারপর থেকে আর সমাবর্তন হয়নি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কবে আসবেন ভিসি? জানেই না উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শেষ সমাবর্তন হয়েছিল ২০১৮ সালে। তারপর থেকে আর সমাবর্তন হয়নি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কয়েক হাজার গবেষক পড়ুয়া এখনও গবেষণাপত্র পেশ করার পরেও পাচ্ছেন না ডিগ্রি। শুধুমাত্র তাই নয়, উত্তরের গর্ব উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মান জাতীয় স্তরে তলানিতে নেমে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ করার জন্য বিগত সরকারের কাছে আবেদন করেও কাজ হয়নি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এক অধ্যাপকের নাম উপাচার্য হিসাবে সামনে এলেও এখনও কোনো সরকারি নির্দেশিকা আসেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, আমরা যতদূর জানি এক অধ্যাপকের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশিকা আমাদের কাছে আসেনি। কাজেই উপাচার্য কবে কাজে যোগ দেবেন, তা জানা নেই। 

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, উপাচার্যের অবর্তমানে গবেষণার কাজ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খেতে হচ্ছে তাদের। পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হোক বা মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ স্থায়ী উপাচার্য ছিলেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য। তাঁর আমলে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও তাঁর নাম সামনে আসে। সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর একে একে বেশ কয়েকজন অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্থায়ী উপাচার্য আর পায়নি এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় তিন বছর ধরে কোনো স্থায়ী উপাচার্য নেই। কাজেই কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই শোনা গিয়েছিল অধ্যাপক দ্বৈপায়ন ভরদ্বাজ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি’র দায়িত্ব নেবেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানে না। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত শিক্ষামহল। এ প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির সম্পাদক অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, আমরা রাজ্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা রাখছি। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ কর্মচারী সমিতির উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক সুমন চট্টোপাধ্যায় বলেন, উপাচার্য একজন অভিভাবক। তাঁকে ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় চালানো সম্ভব নয়। কেন এই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ