Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

থমকে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শুরু, জল্পনা তুঙ্গে প্রার্থীদের মধ্যে

রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদল সম্পূর্ণ। এবার চাকরিপ্রার্থীদের একটাই প্রশ্ন, ভোটের জন্য থমকে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে?

থমকে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শুরু, জল্পনা তুঙ্গে প্রার্থীদের মধ্যে
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদল সম্পূর্ণ। এবার চাকরিপ্রার্থীদের একটাই প্রশ্ন, ভোটের জন্য থমকে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে? ভোট ঘোষণা হওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। স্থগিত হওয়ার কারণ হিসাবে প্রথমে প্রার্থীদের অসুবিধার কথা বলা হয়েছিল। তাঁদের দাবিতেই ইন্টারভিউ স্থগিত রাখা হয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের কথা জানায় পর্ষদ। তবে ভোট শেষ হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ হয়ে গেলেও এখনই দ্রুত ইন্টারভিউ চালুর আশ্বাস মিলছে না। সূত্রের খবর, নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে ইন্টারভিউ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না পর্ষদ। প্রসঙ্গত, প্রায় ১৪ হাজার পদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হতে চলেছে। 

Advertisement

সরকার বদলের পর থেকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের ধুম পড়েছে। যদিও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই চেয়ারম্যানদের ভূমিকা বিশেষ নেই। তা সত্ত্বেও তাঁদের পদত্যাগের চিঠি অস্বস্তিতে রেখেছে পর্ষদকে। এসব পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে একটা তত্ত্ব দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে পর্ষদ এবং বিকাশ ভবনের তরফে। তবে চেয়ারম্যানদের দাবি, এই ধরনের পদে ইস্তফাপত্র গৃহীত হওয়ার কোনো ব্যাপার নেই। কারণ, পদটি অবৈতনিক। নতুন কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারও নেই। ফলত এনিয়ে স্পষ্টতই দ্বিমত রয়েছে।
পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ হাজার ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। এটা মোট চাকরিপ্রার্থীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ। এখনই কোনো সূচি ঘোষণা করা হচ্ছে না।’ নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নিলে সেই নির্দেশমতো কাজ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া, চেয়ারম্যানদের পাঠানো পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন। তবে এটাও মানছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে এটা কোনো ফ্যাক্টর হবে না। কারণ পর্ষদের সুপারিশে ডিআই-রা নিয়োগ দিতে পারবেন। গোতমবাবুর আশা, এই সরকার নতুন চেয়ারম্যানও দ্রুত নিয়োগ করবে। 
অন্যদিকে, জটিলতা রয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগ ঘিরেও। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কাউন্সেলিংয়ে ভুল স্কুল বা বিষয়ের ভিত্তিতে সুপারিশের কারণে বহু শিক্ষকের কাজে যোগদান আটকে রয়েছে। তার মধ্যে ভোট এবং সরকার বদলের ফলে থমকে রয়েছে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া। এই স্তরে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে। আর মাধ্যমিক স্তরে এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার। স্কুলশিক্ষা কমিশনারের পদটি ফাঁকা থাকার কারণেও শূন্যপদ নির্ণয়ে সমস্যা হচ্ছিল। তবে আইএএস অফিসার নিখিল নির্মলকে এই পদে আনা হয়েছে। ফলে এবার  সমস্যা মিটবে বলে আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা। 
এদিকে, চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক এবং ২০২৫ এসএলএসটিতে সুযোগ পাওয়া নতুন প্রার্থী বা ফ্রেশাররা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেদের দাবিতে সরব হন। যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের তরফে চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘নয়া মুখ্যমন্ত্রী সহ তাবড় বিজেপি নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, দল জিতলে আমাদের বিষয়টি দেখা হবে। তাই আমাদের প্রাথমিক দাবি, সব তথ্যপ্রমাণ আদালতের সামনে তুলে ধরে আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করুক সরকার। আগের চাকরিই ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ফ্রেশারদের স্বার্থও দেখা হোক। ২০২৫ এসএলএসটিতে ঘোষিত শূন্যপদের পুরোটা এবং নতুন শূন্যপদ তৈরি করে ফ্রেশারদের দেওয়া হোক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ