নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেই ভোটের সময় থেকে কলকাতায় বন্ধ হয়ে রয়েছে সম্পত্তি করে ওয়েভার। কলকাতা পুরসভা সারাবছর ধরে সম্পত্তি করের ক্ষেত্রে যে ‘গ্রেডেড ওয়েভার’ দেয়, গত ছয়মাসের বেশি সময় ধরে তা বন্ধ। রোজ ফোন আসছে পুরকর্তাদের কাছে। এই অবস্থায় পুরসভার তিনদিনের সম্পত্তি করের বিশেষ শিবিরেও ওয়েভার নিয়ে নাগরিক প্রশ্নের মুখে পুর কর্তৃপক্ষ। কবে মিলবে ট্যাক্সের ওয়েভার বা ছাড়, তা জানতে শিবিরে ছুটে এলেন বহু সম্পত্তি করদাতা। পাশাপাশি, বয়স্কদের জন্য চালু থাকা অ্যাসেসমেন্ট ট্যাক্সে ১০ শতাংশের ছাড় ফের কবে চালু হবে, সেটাও খোঁজ নিলেন বহু নাগরিক।
উল্লেখ্য, বিশেষ ওয়েভার স্কিম কয়েকবছর অন্তর আনে কলকাতা পুরসভা, যাতে বিপুল অনাদায়ী সম্পত্তি কর যতটা সম্ভব আদায় করা যায়। এর বাইরে দু-তিন বছর ধরে ‘গ্রেডেড ওয়েভার’ চালু হয়েছিল। সেটি মিলত বছরভর। তবে, যার বকেয়া যত বেশি দিনের তত কম ছাড় দেওয়ার নিয়ম ছিল এই পদ্ধতিতে। বছরভিত্তিক বিভিন্ন গ্রেড ধরে ছাড়ের শতাংশ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু, নির্বাচনি আচরণ বিধি চালু হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিক নিয়মে তা বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে বয়স্কদের ছাড়ের বিষয়টিও আর দেওয়া হচ্ছিল না। মনে করা হয়েছিল ভোটের পর চালু হবে সবটা। কিন্তু পালাবদল পরবর্তীকালে পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় এই ওয়েভার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নাগরিকরা সুবিধা পাচ্ছেন না।
এই অবস্থায় সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায়ের সংক্রান্ত নানাবিধ প্রয়োজনে তিনদিনের বিশেষ ক্যাম্প করেছিল পুর কর্তৃপক্ষ। শহরের বুকে সম্পত্তি কর বিভাগের যে অফিসগুলি রয়েছে সেখানেই চলে শিবির। পুরসভা সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট বিভাগের আটটি শাখা মিলিয়ে শিবিরের এসেছিলেন ১২১৩ জন করদাতা। তার মধ্যে মিউটেশন, নামের বানান কিংবা ঠিকানা সংশোধন, সেলফ অ্যাসেসমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাগরিকরা এলেও সবথেকে বেশি ওয়েভারের ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন করদাতারা। বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকরা। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, শিবিরে ইনস্ট্যান্ট মিউটেশন হয়েছে। করদাতাকে সামনে বসিয়ে রেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সেলফ অ্যাসেসমেন্ট (স্যাফ) করে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ কর সংক্রান্ত নথি আপডেট করতে এসেছিলেন। এর বাইরেও নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। সেগুলি বহুদিন ধরে নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।