বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: প্রশিক্ষিত জেনারেল সার্জন নেই। যে দু’জন ছিলেন, তাঁদের বদলি করা হয়েছে। ফলে পিজি হাসপাতালে বন্ধ হয়ে গেল প্রায় ৭ কোটি টাকা দামে কেনা অত্যাধুনিক রোবটের মাধ্যমে জেনারেল সার্জারি অপারেশন। তবে অঙ্কো, ইউরো, গাইনি শাখায় রোবটিক সার্জারি আগের মতোই চালু আছে। রাজ্যের এই এক নম্বর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। রোবটিক জেনারেল সার্জারি চালু থাকাকালীন এখানে ২-৬ লক্ষ টাকার অপারেশন হত একেবারে নিখরচায়। সপ্তাহ তিনেক হল, সেসব অস্ত্রোপচার বন্ধ। হাসপাতালের পদস্থ মহল খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, কেউ অপরিহার্য নয়। শীঘ্রই জেনারেল সার্জারির কয়েকজন চিকিৎসককে রোবটিক সার্জারির ট্রেনিং দেওয়া হবে। সমস্যাও মিটবে।
দিনসাতেক আগে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০০ শিক্ষক-চিকিৎসককে বদলি করা হয়। তালিকায় ছিলেন পিজির সার্জারির প্রধান, বিশিষ্ট জেনারেল সার্জন ডাঃ দীপ্তেন্দ্র সরকারসহ ৬ প্রধান। বদলির তালিকায় ছিলেন নামজাদা তরুণ জেনারেল সার্জন ডাঃ সিরাজ আহমেদও। প্রথমজনকে বাঁকুড়া ও দ্বিতীয়জনকে কোচবিহারে বদলি করা হয়। প্রথমজন পদত্যাগের চিঠি পাঠিয়েছেন। দ্বিতীয়জন জয়েন করেছেন।
প্রসঙ্গত, পিজিতে সরকারি ক্ষেত্রে প্রথম রোবটিক সার্জারি চালুর আগে ৮ জন সার্জারি বিষয়ক বিভাগের (জেনারেল সার্জারি, গাইনি, ইউরো ও অঙ্কো সার্জারি) শিক্ষক-চিকিৎসককে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। তারপরই চালু হয় রোবট। বছরখানেক আগে চালু এই পদ্ধতিতে যত অপারেশন হয়েছে, তার ৩০ শতাংশই জেনারেল সার্জারি অপারেশন। যেমন, রোবটিক কোলেসিস্টেকটমি (রোবটিক পদ্ধতিতে গলব্লাডার বাদ দেওয়ার পদ্ধতি), রোবটিক ফানন্ডোপ্লাইকেশন (গলায় হার্নিয়া, পাকস্থলি উঠে আসে) , রোবটিক রাইট হেমি কোলেকটমি (ডানদিকের কোলনের ক্যান্সার সার্জারি), রোবটিক থাইরয়েডেকটমি (থাইরয়েড বা অংশবিশেষ বাদ দেওয়া), রোবটিক ইনগুইনাল হার্নিওপ্লাাস্টি (কুঁচকির হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার)। এছাড়াও রোবটিক সিবিডি এক্সপ্লোরেশন, রোবটিক ই টেপ আরএস ফর হার্নিয়া ইত্যাদিও হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পদস্থ সূত্রের দাবি, বছরের পর বছর বহু শিক্ষক-চিকিৎসক প্রভাব খাটিয়ে কলকাতার পিজিসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ঘাঁটি গেড়ে থেকেছেন। অথচ জেলার মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসকরা বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন। ন্যায়বিচার দিতেই জেলার শিক্ষক-চিকিৎসকদের কলকাতা ও আশপাশে এবং কলকাতার চিকিৎসকদের দূরবর্তী জেলায় পাঠানো হয়েছে। যতই প্রভাবশালী হন না কেন, তালিকায় পিজির সার্জারি, অর্থো, স্কিন, পেডিয়াট্রিক মেডিসিন ও অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধানরাও ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, আশ্চর্যজনকভাবে ন্যায়বিচারের যুক্তি খাটেনি পিজিসহ শহরের পাঁচ মেডিকেল কলেজের বহু শিক্ষক-চিকিৎসকের ক্ষেত্রেই। পিজিতেও ১০ বছর থেকে ২৬ বছর টানা চাকরির পরও সাম্প্রতিক বদলির খাঁড়া আশ্চর্যজনকভাবে তাঁদের স্পর্শ করেনি। রোবটিক সার্জারিতে প্রশিক্ষিত দুই বদলি হওয়া জেনারেল সার্জনের কেউই এনিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ফোন ধরেননি। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘আরও সার্জনকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। যাঁরা শিখেছেন, তাঁদেরও বলা হবে ট্রেনিং দিতে।’