Bartaman Logo
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরভোট অনিশ্চিত, মামলার জট কাটিয়ে কবে মিলবে ইভিএম? ধন্দে কমিশন

রাজ্যে পালাপাদলের পর ক্ষমতায় আসতেই পুর নির্বাচনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরভোট অনিশ্চিত, মামলার জট কাটিয়ে কবে মিলবে ইভিএম? ধন্দে কমিশন
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: রাজ্যে পালাপাদলের পর ক্ষমতায় আসতেই পুর নির্বাচনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে ছিলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা এবং হাওড়া সহ মেয়াদ উত্তীর্ণ বাকি পুরসভাগুলির নির্বাচন সেরে ফেলতে চায় রাজ্য সরকার। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে শাসক দল বিজেপি। কিন্তু ঘোষিত সময় মতো পুর নির্বাচন হওয়া নিয়ে রীতিমতো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, নির্বাচন করাতে যে সংখ্যক ইভিএমের প্রয়োজন, তার সিকিভাগও বর্তমানে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই। ইভিএমের এই অপ্রতুলতার কথা জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলারই শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কমিশনের পরিকল্পনা ছিল, হাইকোর্টে এদিন ইভিএম জট কেটে গেলে পুরোদমে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দেবে তারা। কিন্তু এদিন সেই মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী সোমবার মামলার শুনানি হতে পারে। তবে মামলার জট কাটিয়ে ঠিক কবে নাগাদ কমিশনের হাতে পর্যাপ্ত ইভিএম আসবে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে ধন্দে পড়েছেন আধিকারিকরাই। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁরা পুরভোট শেষ করতে পারবেন কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। 

Advertisement

এদিন বিষয়টি নিয়ে ফের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কমিশনের আইনজীবী সপ্তাংশু বসু। জানা গিয়েছে, বর্তমানে মোট ২৬টি নির্বাচনি মামলা বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশেই ওইসব মামলার সঙ্গে যুক্ত বহু ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে। সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে সেসব নির্বাচনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজও। এই মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করে ইভিএম হাতে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে কমিশন। 
কিন্তু আইনজীবী মহলের ব্যাখ্যা, যে সমস্ত ইলেকশন পিটিশন দায়ের হয়েছে এবং যার ফলে ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তি করতে বিস্তর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করানোটা কার্যত অসম্ভব। তাছাড়া শুধু মামলার নিষ্পত্তিই নয়। ইভিএম হাতে পাওয়ার পর তা পুনরায় নির্বাচনের জন্য উপযোগী করে তুলতে বেশ কিছুটা সময় প্রয়োজন। ওই সব ইভিএমের মধ্যে থাকা পুরানো রেকর্ড প্রথমে মুছে ফেলতে হবে। তারপর তিন ধাপে ইভিএম পরীক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তিগতভাবে ফিট সার্টিফিকেট মিললে তারপর হবে মক টেস্ট। অর্থাৎ ইভিএমগুলি যে ভোটগ্রহণের উপযোগী, তা প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে হাতে-কলমে দেখিয়ে দিতে হবে কমিশনকে। তারপরই সেগুলি ভোটে ব্যবহার হবে। এসব কাজে বেশ খানিকটা সময় প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাছাড়া ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কারণে এবার বেশি ইভিএম প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং ভোট সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অন্তত ২৮ দিনের ন্যূনতম ব্যবধান রাখাটাও বাঞ্ছনীয়। 
কলকাতা, হাওড়া ছাড়াও ২০১৭ সালের পর থেকে দুর্গাপুর, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পুজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি এবং ধূপগুড়ি পুরসভায় নির্বাচন বাকি। পালাবদলের পর আরও অন্তত ১৫টি পুরসভায় প্রশাসক বসেছে। সেগুলিতেও নির্বাচন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে আপাতত মামলার জটেই আটকে রাজ্যের পুর নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। তবে এখনই হাল ছাড়তে নারাজ কমিশন। ভোট করানো নিয়ে আজ, বুধবার প্রথম দফায় কলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি, ধূপগুড়ি, হলদিয়া, বালি, কার্শিয়াং, কালিম্পং, ঝাড়গ্রামের ডিএমদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। থাকবেন পুর ও নগরোন্নয়ন আধিকারিকরাও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ