


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী জুন মাস থেকে রেশন দোকানে আটার বদলে গম দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। বুধবার বিধানসভায় এসে বিধায়ক পদে শপথ নেন তিনি। তারপরই খাদ্য দপ্তরের কাজকর্ম এবং আগামী পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। ইতিমধ্যে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেছেন অশোকবাবু। আগামী দিনে রাজ্য ও জেলা স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করে খাদ্য দপ্তরকে নতুনভাবে সাজাতে চান তিনি। প্রথমেই খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো অবস্থায় আপস করা হবে না। দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করে স্বচ্ছ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। সেই সূত্রেই খাদ্যমন্ত্রী জানান, জুন মাস থেকে রেশন দোকানগুলিতে আর আটা দেওয়া হবে না। ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া বা এফসিআই থেকে যে গম পাঠানো হয়, তা রেশন দোকানগুলির মাধ্যমে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হবে। সঠিক মাপ এবং গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে গম পৌঁছাবে সাধারণ মানুষের কাছে। খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর, আটা উৎপাদনের জন্য পুরো খরচটাই করতে হয় রাজ্য সরকারকে। তাই আটা বন্ধ হলে রাজ্য সরকারের খরচও বাঁচবে। জানা গিয়েছে, বামফ্রন্ট সরকারের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন পরেশ অধিকারী। সেই সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তর বিশেষ আগ্রহে রেশনে গ্রাহকদের গমের বদলে আটা দেওয়া শুরু হয়। এর জন্য কেন্দ্রের তৎকালীন ইউপিএ সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়েছিল রাজ্য। তবে শুধুমাত্র ‘সংশোধিত রেশন এলাকা’য় আটা দেওয়া হত। জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চল এই সংশোধিত এলাকার মধ্যে পড়ে। তাছাড়া, রাজ্যের যেসব রেশন গ্রাহক জাতীয় প্রকল্পের আওতায় আছেন, তাঁরাই কেবল গম বা আটা পান। এই ধরনের গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। গম থেকে প্রতি কুইন্টাল আটা উৎপাদন করতে প্রায় ১৩৫ টাকা খরচ হত। ৯৭টি নথিভূক্ত ফ্লাওয়ার মিল বিভিন্ন জেলায় আটা উৎপাদন করত। খাদ্যদপ্তর থেকে গম সরাসরি এই ফ্লাওয়ার মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হত। সেখানে আটা উৎপাদন করে প্যাকেটবন্দি করা হত। রেশনের এই আটার মান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
খাদ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কয়েকদিন পর থেকে তিনি সারপ্রাইজ ভিজিটে যাবেন। এদিকে, রেশনে আটার বদলে গম দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের এই দীর্ঘদিনের আন্দোলনের জয় হল।’