Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এত টাকার উত্স কী? কান্দিতে শান্তনুর ‘অট্টালিকা’ নিয়ে প্রশ্ন

এ যেন বিগ বাজেটের বলিউডি সিনেমার সেট। ধবধবে সাদা অট্টালিকা।

এত টাকার উত্স কী? কান্দিতে  শান্তনুর ‘অট্টালিকা’ নিয়ে প্রশ্ন
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এ যেন বিগ বাজেটের বলিউডি সিনেমার সেট। ধবধবে সাদা অট্টালিকা। তার সামনে সিংহমূর্তি, পেল্লায় দরজা।  ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ছোট্ট পৈতৃক ভিটে যেভাবে কয়েক বছরের মধ্যে সবার চোখের সামনে রাজপ্রসাদ হয়ে উঠেছে, তা অবিশ্বাস্য। 

Advertisement

এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়েছেন শান্তনু। প্রশ্ন উঠেছে, ডিসি র‌্যাঙ্কের একজন পুলিশ কর্তার মাইনে কত, যা দিয়ে এমন বাড়ি বানিয়েছেন তিনি? ইতিমধ্যে ইডি তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল থেকে তোলাবাজির মতো অভিযোগ এনেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ অফিসারদের বদলিও নাকি ‘কন্ট্রোল’ করতেন শান্তনু। জানা যায়, শান্তনুর উত্থান শুরু কালীঘাট থানার ওসি পদে থাকাকালীন। ক্রমে তিনি ডিসি র‌্যাঙ্কের অফিসার হন। শেষপর্যন্ত সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্ব পান।
মূলত জমি দখল ও অবৈধ নির্মাণের চক্র চালানোর অভিযোগ উঠেছে শান্তনুর বিরুদ্ধে। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে পাওয়া তথ্যে উঠে এসেছে চক্রের বিষয়টি। আর তারপর একের পর এক বিশাল সম্পত্তির হদিশ মিলছে। শান্তনুর বাড়ির কান্দি থানার জেমো এলাকায়। গত তিনবছর ধরে চোখের সামনে বাড়িটি তৈরি হতে দেখেছেন এলাকার বাসিন্দারা। মাঝে মধ্যে ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতেন শান্তনু। বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করেন তাঁর বোন তথা কান্দি পুরসভার তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তাই এলাকার অনেকে ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িও বলে থাকেন।
একসময় সাধারণ একটি বাড়ি ছিল শান্তনুদের। সেখানেই বড়ো হওয়া। কিন্তু বছর তিনেক আগে থেকে মহলের পর মহল তৈরি হয়। সামনে অনেকখানি জায়গা নিয়ে পাঁচিল দেওয়া হয় বাড়ির বাইরে। সেই পাঁচিলের মাঝে রয়েছে পেল্লায় দরজা। বাড়ির সামনে সিংহমূর্তি বসানো। গত কয়েকদিন ধরে অবশ্য বাইরে থেকে তালা দেওয়া সেই দরজায়। বাড়িতে আপাতত কারও যাতায়াত নেই। এই ব্যাপারে জানতে গৌরী সিনহা বিশ্বাসকে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি।  কান্দির ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ গোপাল সাহা বলেন, বাড়িটা আগে ভাঙাচোরা ছিল। তিন থেকে চার বছরের মধ্যে হঠাৎ প্রাসাদের মতো হয়ে উঠেছে। ফুলেফেঁপে উঠেছে ওরা। হঠাৎ করে কীভাবে এত টাকা হল সেটা সবাই জানে। এখন তো সবটা পরিষ্কার। কিন্তু এই বিপুল অর্থের উৎস কী, সেটা তো আমরা জানি না। 
কান্দি শহর বিজেপির সভানেত্রী বিনীতা রায় বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের দাদার কী করে এমন প্রাসাদোপম বাড়ি হল, সেটা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দেখা হোক। কুলির এক ব্যক্তির আড়াই কোটি টাকা দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন, সেটা খতিয়ে দেখা হোক। উনি নিজে এত বড়ো অফিসার, সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। প্রোমোটারদের থানায় তুলে এনে ভয় দেখানো, বিভিন্ন অফিসারদের ভয় দেখিয়েছে। এসব তোলাবাজির করেই হয়তো বিপুল টাকা এসেছে। এমনকি কান্দি পুরসভায় টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত হলে বোঝা যাবে সেই টাকা কার পকেটে ঢুকেছে।  শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের এই বাড়ি নিয়েই বিতর্ক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ