Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

এভারেস্টের চেয়েও বড়!

মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও বড় কোনও পর্বতশৃঙ্গ পৃথিবীতে রয়েছে! সেই শৃঙ্গের নাম কী? কোথায় অবস্থিত? জানালেন শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়।

এভারেস্টের চেয়েও বড়!
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও বড় কোনও পর্বতশৃঙ্গ পৃথিবীতে রয়েছে! সেই শৃঙ্গের নাম কী? কোথায় অবস্থিত? জানালেন শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গের নাম কী? ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা সকলে উত্তর দেবে— মাউন্ট এভারেস্ট। ভাববে এবার এমন কী কঠিন প্রশ্ন। কিন্তু তোমরা জানো কি, মাউন্ট এভারেস্টের থেকেও মোট উচ্চতা বেশি এমন শৃঙ্গ এই পৃথিবীতে রয়েছে! আর সেটা একটা আগ্নেয়গিরি! তার নাম মৌনালোয়া।
তোমরা ভাবছ, এবার কেমন কথা! সমস্ত বইয়ে লেখা রয়েছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিমালয় পর্বতমালার মাউন্ট এভারেস্ট। নেপালে অবস্থিত এই শৃঙ্গ প্রথবার জয় করেছিলেন তেনজিং নোরগে ও এডমন্ড হিলারি। এ সব কিছুই কি ভুল? না, ভুল নয়। আবার মৌনালোয়াও যে এভারেস্টের থেকে মোট উচ্চতায় বেশি সেটাও ভুল নয়। এবার ভাবছ, এ কেমন ধাঁধা! দুটোই ঠিক! আসলে সমুদ্রের তলদেশ থেকে যদি মাপা হয় তাহলে মৌনালোয়ার উচ্চতা ৯ হাজার ১৭০ মিটার (৩০,০৮৬ ফুট)। আর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার (২৯ হাজার ২৯ ফুট)। এবার তোমরাই বল কোনটা বেশি উঁচু!
কিন্তু পৃথিবীর স্থলভাগের উচ্চতা সব সময় মাপা হয় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে। সেভাবে মাপলে মৌনালোয়ার উচ্চতা দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৭০ মিটার (১৩ হাজার ৬৮১ ফুট)‌। অর্থাৎ এই পর্বতের বাকি ৫০০০ মিটার রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে। তাই মোট উচ্চতায় বড় হওয়া সত্ত্বেও মাউন্ট এভারেস্টই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
যাইহোক, এই আগ্নেয়গিরিটি রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে। ‘মৌনালোয়া’ শব্দের অর্থ দীর্ঘ পর্বত। আনুমানিক চার লক্ষ বছর আগে এই আগ্নেয় পর্বত ভূপৃষ্ঠের উপর উঠে আসে।
মৌনালোয়া পৃথিবীর সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। শেষবার এখানে অগ্ন্যুৎপাত হয় ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তারপর আর হয়নি। এর আগে অগ্ন্যুৎপাত হয় ১৯৮৪ সালে, যা ২৪ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছিল। ২০২২ সালে অগ্ন্যুৎপাতের সময় কোন‌ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি ঠিক‌ই, তবে ১৯২৬ ও ১৯৫০ সালে যখন অগ্ন্যুৎপাত হয়, তখন অনেক গ্রাম ধ্বংস করে দিয়েছিল লাভার স্রোত। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে লাভা প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছে হিলো শহর। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাউন্ট মৌনালোয়া যে অঞ্চলে রয়েছে, সেখানে প্রথম অগ্ন্যুৎপাত হয় আনুমানিক ৭ লক্ষ বছর আগে। যদিও এর প্রাচীনতম শিলাটির বয়স আনুমানিক ৪ লক্ষ ৭০ হাজার বছরের বেশি হবে না।
মৌনালোয়া ডিকেড ভলক্যানো প্রোগ্রামের অংশ, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক আগ্নেয়গিরি নিয়ে গবেষণা করা হয়। ১৯১২ সাল থেকে হাওয়াইয়ান ভলক্যানো অবজারভেটরির দ্বারা এই আগ্নেয় পর্বতকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এটি একটি ঢালু আগ্নেয়গিরি। যার আয়তন আনুমানিক প্রায় ১৮ হাজার ঘন মাইল (৭৫,০০০ কিমি)। যেসব আগ্নেয়গিরির তরল লাভা ঢালু আকৃতির ভূমিরূপ তৈরি করে, যা অনেকটা দেখতে ঢালের মতো, তাদের ঢালু আগ্নেয়গিরি বলে।
অনেকের মতে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ গঠন হ‌ওয়ার পেছনে কয়েক লক্ষ বছর ধরে চলা মৌনালোয়ার অগ্ন্যুৎপাতই দায়ী। ১৮৪৩ সাল থেকে মৌনালোয়ায় ৩২ বার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ