Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

কীভাবে শুরু হল কমনওয়েলথ গেমস?

শুরু হয়েছে কমনওয়েলথ গেমস। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে বসেছে এবারের গেমসের আসর। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ওলিম্পিকসের পর যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার গুরুত্ব সর্বাধিক, তার মধ্যে অন্যতম কমনওয়েলথ গেমস।

কীভাবে শুরু হল কমনওয়েলথ গেমস?
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উৎপল অধিকারী: শুরু হয়েছে কমনওয়েলথ গেমস। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে বসেছে এবারের গেমসের আসর। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ওলিম্পিকসের পর যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার গুরুত্ব সর্বাধিক, তার মধ্যে অন্যতম কমনওয়েলথ গেমস। এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ক্রীড়াচেতনার এক অনন্য উৎসব। চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই আসরে বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের বহু দেশ অংশগ্রহণ করে।

Advertisement

কমনওয়েলথ গেমসের ধারণা প্রথম উত্থাপন করেন ইংল্যান্ডের ধর্মযাজক রেভারেন্ড জন অ্যাস্টলি কুপার। ১৮৯১ সালে তিনি প্রস্তাব দেন যে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করলে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ১৯৩০ সালে কানাডার হ্যামিল্টন শহরে প্রথম ব্রিটিশ এম্পায়ার গেমস অনুষ্ঠিত হয়। তখন মাত্র ১১টি দেশ এবং প্রায় ৪০০ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নেন। মাত্র ছ’টি ইভেন্ট ছিল সেবার। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৬ সালে এর নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় ব্রিটিশ এম্পায়ার অ্যান্ড কমনওয়েলথ গেমস। এরপর ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত এর নাম ছিল ব্রিটিশ কমনওয়েলথ গেমস। শেষে ১৯৭৮ থেকে নতুন নাম হয় কমনওয়েলথ গেমস। ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হয়নি। যুদ্ধ শেষে ১৯৫০ সালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হয়।
কমনওয়েলথ গেমসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল প্যারা-স্পোর্টসকে (প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের খেলা) মূল প্রতিযোগিতার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা। যা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐক্য ও বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কমনওয়েলথ গেমসের মূল মন্ত্র হল— ‘হিউম্যানিটি-ইকুইলিটি-ডেসটিনি’। যার অর্থ হল মানবতা, সমতা ও অভিন্ন ভবিষ্যৎ।
কুইন্স ব্যাটন রিলে (বর্তমানে কিংস বাটন রিলে) এই প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ। কমনওয়েলথের প্রধানের বার্তা বহনকারী ব্যাটনটি অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ ভ্রমণ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছায়। ভারত ১৯৩৪ সালে প্রথমবার অংশগ্রহণ করে। সেই বছর কুস্তিগির রশিদ আনোয়ার ভারতের হয়ে প্রথম পদক জয় করেন। আমাদের দেশের সাফল্যের প্রকৃত উত্থান শুরু হয় স্বাধীনতার পর। বিশেষ করে শ্যুটিং, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, ভারোত্তোলন, বক্সিং ও টেবিল টেনিসে ভারত ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।
ভারত বহুবার পদক তালিকার শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে। ২০১০ সালে নয়াদিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমসের আসর বসে। সেবার ৭১টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল। এসেছিলেন প্রায় ৬ হাজার ক্রীড়াবিদ। ভারত মোট ১০১টি পদক জিতে ইতিহাস গড়ে। সেই বছর পদক তালিকায় আমরা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলাম। এটি ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস ছিল অত্যন্ত সফল। ওই বছর ভারত ২২টি স্বর্ণ পদক, ১৬টি রৌপ্য পদক ও ২৩ টি ব্রোঞ্জ পদক সহ মোট ৬১টি পদক লাভ করে। সেবার ভারত পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান অর্জন করে। এবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন মীরাবাই চানু, শর্মিলা ধনকর, দিলীপ গভিত, জ্ঞানেশ্বরী যাদব, হৃষীকান্ত সিং, গুলবীর সিং প্রমুখ। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে বেশ কিছু নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য প্রথমে আয়োজক হলেও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা সরে দাঁড়ায়। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় সীমিত পরিসরে এই বছর এই মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। খেলাটিকে পরিবেশ বান্ধব করার জন্য নানান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 
১৯৩০ সালে মাত্র ১১টি দেশের অংশগ্রহণ দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আজ এটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়ার আসর। ভারতের ধারাবাহিক সাফল্য এই প্রতিযোগিতাকে দেশের ক্রীড়া বিকাশের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কমনওয়েলথ গেমস শুধু অতীতের ঐতিহ্যের ধারক নয়, এটি আগামী দিনের ক্রীড়া বিশ্বেরও পথপ্রদর্শকও বটে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ