Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের ভবিষ্যৎ কী? নজর আজ নেতাজি ইন্ডোরে মমতার সভাতেই

‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের ভবিষ্যৎ কী? নজর আজ নেতাজি ইন্ডোরে মমতার সভাতেই
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরিহারা ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগবে? কী হবে এতগুলো পরিবারের? এটাই এখন বাংলার মাটিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। এই ইস্যুতে বাম-বিজেপির চড়া দাগের রাজনীতির অভিযোগের মধ্যেও সব চোখ তাই আজ, সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে। কারণ, চাকরিহারা শিক্ষক-ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে সভা ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই যুবক-যুবতীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করবেন তিনি। কথা বলবেন। তাই একটাই আশায় বুক বাঁধছে হাজার হাজার চাকরিহারা—কোনও একটা দিশা নিশ্চয়ই দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। এতগুলো পরিবারকে ভেসে যেতে দেবেন না। যোগ্যদের পাশে থাকার বার্তা আগেই দিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার অধীর অপেক্ষা, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ নেবেন, সেটা জানার। সেই মঞ্চ আজকের নেতাজি ইন্ডোর। 

Advertisement

রবিবার সকাল থেকেই শহিদ মিনার সংলগ্ন মাঠে ‘চাকরিহারা’ শিক্ষকদের ভিড় দেখা গেল। সেখানে একেবারে চোঙা বেঁধে ডাক দিয়ে ওই সব ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল ‘টোকেন’। কী এই টোকেন? সদ্য চাকরিহারা শিক্ষক আজহারউদ্দিন রকি বলছিলেন, ‘প্রশাসনের তরফে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের সংখ্যাটা প্রায় ১৯ হাজারের কাছাকাছি। যাঁদের নাম সিবিআইয়ের তালিকাতে নেই। সকলে তো আর ইন্ডোরে প্রবেশ করতে পারবেন না। আমরা তালিকা মিলিয়ে এখান থেকে টোকেন দিচ্ছি। সেটা নিয়ে ইন্ডোরে প্রবেশ করা যাবে।’ হাতে দেওয়া সেই ‘টোকেন’-এ লেখা রয়েছে ‘বঞ্চিত শিক্ষক শিক্ষিকা’। সূত্রের খবর, এই চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে বহুমত তৈরি হয়েছে। এদিন যাঁরা ‘টোকেন’ বিলি করলেন, তাঁরা আবার নবান্ন অভিযানে নেই। অন্যদিকে, আর একদল চাকরিহারা শিক্ষক বলছেন, ‘এভাবে কেউ কীভাবে টোকেন বিলি করে ঠিক করতে পারে কারা যাবেন, কারা যাবেন না?’ যদিও এদিন টোকেন বিলিকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, এরকম কোনও বিভাজন নেই। এটা সরকারি অনুষ্ঠান। আমরা তো মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে যাচ্ছি। উনি আমাদের রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে কী বলছেন, সেটা তো শোনা দরকার। এদিনই কলকাতার আশপাশের জেলা থেকে সদ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসেছিলেন। ওই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার রাত থেকেই ইন্ডোরে উপস্থিত থাকার জন্য দূরের জেলা থেকে শিক্ষকরা এসে উপস্থিত হবেন। দূরের জেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ‘অ্যাডমিন’দের কাছে সেই টোকেন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। 
কিন্তু তৃণমূলের কাছে বেশ কয়েকটি সূত্রে খবর এসেছে, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বৈঠক যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নভাবে না হয়, তার জন্য সিপিএম ও বিজেপি গণ্ডগোল পাকানোর পরিকল্পনা করেছে। তৃণমূলের দাবি, ছোট ছোট গ্রুপ করে কিছু মানুষকে ইন্ডোরে প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিরোধীরা। বিশৃঙ্খলা তৈরির চক্রান্ত রয়েছে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কী বলেন, সেটা না শুনেই চক্রান্ত করছে বিরোধীরা। তাই তৃণমূলের তরফে আবেদন করা হয়েছে, সিপিএম-বিজেপির কথায় কেউ পা দেবেন না। জট খোলার চেষ্টা মুখ্যমন্ত্রী করছেন। তাঁর উপর আস্থা-ভরসা রাখুন। যারা প্ররোচনা দিচ্ছে, তাদের চিনে রাখুন।’
সূত্রের খবর, রায়ের যে অংশ নিয়ে খানিক ধন্দ তৈরি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা আদালতের থেকে চাইতে পারে সরকার। তবে, নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা যে দ্রুত সেরে ফেলা হবে, সে বিষয়ে সরকারের কোনও মহলেই সংশয় নেই। অনিয়মের অভিযোগে যাঁদের সুপ্রিম কোর্ট চিহ্নিত করেনি, নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের কীভাবে ‘কনসেশন’ দেওয়া যায়, সেই ভাবনা চলছে নবান্নের শীর্ষ স্তরে। কেউ ফ্ল্যাটের ইএমআই দিতে পারছেন না, কারও বাড়িতে হানা দিচ্ছে রিকভারি এজেন্টরা, আবার কারও বাড়িতে সন্তানের দুধ কেনারও টাকা নেই। আশার আলো দেখতে চাইছেন বাংলার সদ্য চাকরিহারা সেই সব শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী। শুনতে চাইছেন, রাজ্যের অভিভাবক তাঁদের জন্য কী বলেন!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ