কিডনির রোগীদের খাওয়াদাওয়া কেমন হবে? কোন অঙ্কে পাত সাজাবেন? জানালেন পুষ্টিবিদ সায়ন্তনী চট্টোপাধ্যায়।
কিডনির রোগীদের খাওয়াদাওয়া কেমন হবে? কোন অঙ্কে পাত সাজাবেন? জানালেন পুষ্টিবিদ সায়ন্তনী চট্টোপাধ্যায়।
কিডনির রোগে ডায়েট বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। এই ঝরনের অসুখে নানা প্রকারভেদ থাকে। কোনো কোনো রোগী রোগের প্রাথমিক পর্যায় বা স্টেজ ১-এ থাকেন। কারো আবার স্টেজ ৪ পর্যন্ত অসখ গড়িয়ে যায়। এছাড়া রোগীর শরীরে অন্যান্য কোনো কো-মর্বিডিটি আছে কি না, সেটাও দেখতে হয়। তাই কিডনির রোগীর ডায়েটের পরিকল্পনা করার আগে বেশ কিছু দিক খতিয়ে দেখতে হয়। রোগী কী খাবেন, কখন খাবেন, কতটুকু খাবেন এসব তাঁকে চার্টের আকারে দেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিতে হয়, রোগীর শরীরে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদির মাত্রা কত। তারপর ঠিক করতে হয় ডায়েট প্ল্যান।
ডায়েটে খেয়াল রাখুন
* প্রোটিন: কিডনির অসুখে প্রোটিন জাতীয় খাবারে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। এই সময় লো প্রোটিন ডায়েটকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোন রোগী কতটা প্রোটিন খাবে, তা নির্ভর করে রোগীভেদে। প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্যে ডিমের সাদা অংশ, মাছ, চিকেন ইত্যাদি খেতে পারেন। তবে কিডনির রোগীদের রেড মিট এড়াতে হবে। মুসুর ডালও বাদ দিলেই ভালো। অনেক সময় কিডনির রোগের সঙ্গে রোগীর কোলেস্টেরলের পরিমাণও বেশি থাকে। সেক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন যেমন সয়াবিন, লেটুস শাক ইত্যাদি খেতে পারেন।
* পটাশিয়াম: কিডনির রোগীদের ডায়েটে পটাশিয়ামের মাত্রাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। রোগী যে খাবারই খান, তার ১০০ গ্রাম ওজনে কতটা পটাশিয়াম আছে দেখা হয়। ২০০ মিগ্রার উপরে পটাশিয়াম থাকলে সেই কাবার কিডনির রোগে খাওয়া যাবে না। ২০০ মিগ্রার উপরে পটাশিয়াম আছে এমন খাবার যেমন— ধনেপাতা, পালংশাক, টম্যাটো, মাশরুম, স্কোয়াশ, কিশমিশ, শুকনো অ্যপ্রিকট, কমলালেবুর রস, কলা, ডাবের বা নারকেলের জল, কচু, থোর, রাঙাআলু, কাঁচা পেঁপে ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। বরং পাতে যোগ করুন বিট, উচ্ছে বা করলা, লাউ, বিন, শসা, ঝিঙে, কড়াইশুঁটি, সজনে শাক, সজনে ডাঁটা ইত্যাদি।
* সোডিয়াম: কিডনি রোগীদের শরীরে জলের পরিমাণ মাপা থাকে। তাই খাবারেও নুন যতটা সম্ভব কমাতে হবে। দিনে ৫ গ্রামের কম নুন খান।
* ফসফরাস: ডায়েটে ফসফরাস সমৃদ্ধ খাদ্য এড়িয়ে চলাই ভালো। এক্ষেত্রে পর্ক, দুগ্ধজাত খাবার, পাকা পেঁপে, আনারস, তরমুজ ইত্যাদি খাদ্য বাদ দিন। দুগ্ধজাত খাবারের বদলে টক দই খেতে পারেন।
তবে কিডনি রোগীর ডায়েট ঠিক করার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কোন খাবার সম্পূর্ণ এড়াবেন ও কী খাবার কতটুকু খেলে সমস্যা এড়িয়ে চলা যাবে, তা ঠিক করবেন সেই চিকিৎসক। ওষুধের পাশাপাশি তাঁর পরামর্শ মেনে চললে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।