নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ১৩ মে খুন করা হয়েছিল জামাই রবীন রুইদাসকে। নৃশংসভাবে গোটা পরিবার মিলে খুন করেছিল তাঁকে। তারপর দেড় মাস গড়িয়ে গিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কারও আচরণে বিন্দুমাত্র অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি প্রতিবেশীদের। রুইদাস পরিবারের জামাই খুনের মূল রহস্য সামনে আসতেই কার্যত অবাক হয়ে গিয়েছেন কানাইপুরের অধিকাংশ বাসিন্দা। বিশেষত, প্রতিবেশীরা অনেকেই জানিয়েছেন, মৃতের শ্বশুর জয়দেব বা শ্যালক অভিজিৎকে দেখে বিন্দুমাত্র টের পাওয়া যায়নি, তাদের বাড়িতে কী ঘটেছে। এমনকী, স্বামীকে খুনের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকা আলপনার আচরণও স্বাভাবিক ছিল। অনেকেই জানিয়েছে, স্বামীর নিখোঁজ প্রসঙ্গে কেউ জানতে চাইলে ওই গৃহবধূ শুধু বলত, কোথায় যে গেল, বুঝতেই পারছি না।
একদল মানুষের ওই স্বাভাবিক জীবনযাপনকে সোমবার যেন কিছুতেই মেলাতে পারছেন না প্রতিবেশীরা। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক জয়দেব, অভিজিৎরা প্রতিদিন কাজে বেরিয়েছে, কিন্তু তাদের দেখে কেউ কিছু টের পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভু রুইদাস বলেন, দেড়মাস আগে খুন করেছে বাড়ির জামাইকে। অথচ খুব স্বাভাবিক ছিল ওই বাড়ির লোকজনের আচরণ। কাউকে দেখে কিছুই বোঝা যায়নি। এমন একটা ঘটনার পর এতদিন কীভাবে ওরা নিরুত্তাপ ছিল, সেটাই ভাবতে পারছি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, আমার দোকানে ওরা জিনিস কিনতে আসত। কারও আচরণে কিছুই বোঝা যায়নি। গোটা ঘটনায় হতবাক পুলিস কর্তারাও। অপরাধ বিজ্ঞান বলে, খুন করার পর অপরাধী কিছু না কিছু সূত্র রেখে যায়। তাদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়। কিন্তু দেড়মাস ধরে বাড়ির সদস্যদের নিরুত্তাপ থাকা বড় বেশি বিস্ময়কর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিস কর্তা বলেন, বিষয়টি একটু অন্যরকম হতে পারে। আসলে নিম্নবিত্ত পরিবারের মধ্যে বিকারজনিত প্রতিক্রিয়া হয় খুব বেশি হয়, নতুবা কম হয়। এক্ষেত্রে হয়তো দ্বিতীয়টি হয়েছিল। কার্যকারণ যাই হোক, সত্য প্রকাশ্যে আসার পর আক্ষরিক অর্থেই জাঙ্গিপাড়ার কানাইপুরে বাসিন্দাদের বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না। নিজস্ব চিত্র