Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ডিমের কী কী গুণ?

ডিমের খাদ্যগুণ ও উপকারিতা নিয়ে আলোচনা। কীভাবে সঠিকভাবে ডিম খাবেন? চিকিৎসকের পরামর্শ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন। বিস্তারিত পড়ুন।

ডিমের কী কী গুণ?
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

হেঁশেল থেকে রাজনীতি। ডিম-চর্চা অব্যাহত। আসুন, ফেরা যাক ডিমের খাদ্যগুণে। কীভাবে খেলে সবচেয়ে উপকার? অতিরিক্ত ডিম খেলে বিপদ কী? পরামর্শে ক্যালকাটা হার্ট ক্লিনিক অ্যান্ড হসপিটালের কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ডাঃ শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। 

Advertisement

ডিমের খাদ্যগুণ ও উপকারিতা
ডিম একটি সুষম খাদ্য। এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, কোলিনের অন্যতম উৎস। একটি ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা শরীরের পেশি গঠনে ভূমিকা নেয়। এতে প্রচুর পরিমাণে কোলিন থাকে, যা স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডিমে উপস্থিত লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের ছানি পড়া ও বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমায়। ডিম ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ডিমে উপস্থিত ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পাশাপাশি কোষবৃদ্ধি, প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁত শক্ত করতে সাহায্য করে। এটি প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রেণ সাহায্য করে। ডিমের মধ্যে ফোলেট থাকে যা ডিএনএ সংশ্লেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ-র মেরামতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। এতে উপস্থিত সেলেনিয়াম কোষের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়াও ডিমে উপস্থিত আয়রন ও জিঙ্ক শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
শিশুদের জন্য ডিম
শিশুদের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও আদর্শ খাবার। এতে উপস্থিত উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২ শিশুর পেশি গঠন ও মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। শিশুদের চোখের সুরক্ষার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে দূরে রাখে।
কখন, কীভাবে খাবেন?
খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় নেই। তবে কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ডিম সিদ্ধ খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত তেল মশলা দিয়ে ডিম রান্না করলে বা ভেজে খেলে অনেকসময় বদহজম, ওজনবৃদ্ধি, পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্যালাডের সঙ্গে ডিম সিদ্ধ কুচি করে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। অল্প গোলমরিচ দেওয়া যেতে পারে। ওটমিলের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরে মেদ জমে না। অনেকে তেল না দিয়ে সামান্য জল ও ভিনিগারে পোচ বানিয়ে খান। এতে ডিমের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে পোচ বা ডিম কাঁচা খেলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।   
অতিরিক্ত ডিম খেলে?
সারাদিনে শিশুদের বয়স অনুযায়ী একটি থেকে দু’টি ডিম যথেষ্ট। প্রাপ্তবয়স্করা একাধিক খেতে পারেন। তবে বয়স্কদের অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কোনোকিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। অ্যালার্জি থাকলে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগের সমস্যা, কিডনির সমস্যা বা প্রোটিন নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেকে মনে করেন, ভ্রূণহত্যা করে ডিম খাওয়া হচ্ছে। সেজন্য ডিম খেতে চান না। মাথায় রাখবেন, বাজারে যে ডিম পাওয়া যায়, তা আনফার্টিলাইজড বা অনিষিক্ত। তাই এই ধরনের ভাবনাচিন্তা দূরে রাখুন। দিব্য ডিম খান। 
লিখেছেন শোভন চন্দ

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ