নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: এবার ডিম উৎপাদনে নজির গড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। গত ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে শুধু এই জেলায় ১৯০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে। জেলায় এত ডিম আগে কখনও উৎপাদিত হয়নি। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে ডিম উৎপাদন হয়েছিল ১৪০ কোটি। অর্থাৎ, ৫০ কোটি বেশি ডিম উৎপাদিত হয়েছে। এখন ডিম উৎপাদনে রাজ্যে প্রথম স্থান অর্জন করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদন ও ব্রিডার পোল্ট্রি খামার স্থাপনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ উৎসাহ প্রদান প্রকল্প বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় ডিম উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে। একইসঙ্গে ব্রিডার পোল্ট্রি খামার স্থাপনের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষিরা। এই ডিম রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি করা হচ্ছে। এর ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ডিম ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, জেলায় একের পর এক ব্রিডার পোল্ট্রি খামার তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি ছাড়াও সরকারি উদ্যোগেও ডিম উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। ডিমের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় ব্যবসার পরিমাণ বাড়ছে। জেলায় কর্মসংস্থানও বাড়ছে।
জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর চিন্ময় চক্রবর্তী বলেন, সারা বছরই ডিমের চাহিদা বেশি থাকে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উৎপাদন বাড়ছে। ডিম রপ্তানি করে উপকৃত হচ্ছেন বহু মানুষ। আমাদের লক্ষ্য, রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করা। আশা করছি, আগামী দিনে আরও বেশি ডিম উৎপাদন সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, কম খরচে পুষ্টিযুক্ত খাবার হিসেবে ডিমের কোনও বিকল্প নেই। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকরা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্কুলের মিড ডে মিলেও ডিমসিদ্ধ দেওয়া হয়। তাই রাজ্য সরকার চাইছে, ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাক। এই কারণে ডিম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকে এসেও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ উৎসাহ প্রদান প্রকল্প সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই জেলায়। এই প্রকল্পের আওতায় ডিম পাড়া মুরগির সংখ্যা অনুসারে ৮-৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন খামার চাষিরা। প্রকল্পের আওতায় সুদ ও বিদ্যুতের উপর ভর্তুকি সহ নানা সুবিধা বর্তমান। গত অর্থবছরে এই প্রকল্পে ৬ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর জেলায় বড় আকারের মুরগির ডিমের ফার্ম রয়েছে ৩০টি। প্রতিটি ফার্ম থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ডিম উৎপাদিত হয়। এছাড়া, বিভিন্ন ব্লকে ছোট ডিমের ফার্ম রয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু গড়বেতা-১, ২ ও ৩ ব্লকে বছরে ৫০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। খড়্গপুর-১ ব্লকে ২০ কোটি ও শুধু শালবনী ব্লকে ৮ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। মেদিনীপুর সদর ব্লকে ডিম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শ্যামল রায়। তিনি বলেন, ডিম উৎপাদন খুবই লাভজনক ব্যবসা। বহু মানুষের কর্মসংস্থানও হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এই জেলা থেকে ডিম পাঠানো হয়। প্রশাসনের তরফে সবসময় সহযোগিতা পাওয়া যায়।-নিজস্ব চিত্র