নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: প্রি-প্রোমোশনাল ট্রেনিংয়ে পাশ করেছেন, অথচ পরে বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য বোর্ডের ইন্টারভিউতে ফেল! তাই আগে প্রশিক্ষণ নিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না। উল্টে, প্রশিক্ষণ দিতে সরকারি টাকা খরচ হচ্ছে। অযথা সময়ও নষ্ট হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পুলিস কর্মীর। এই সমস্যা মোকাবিলায় চালু পদ্ধতিতে কীভাবে বদল আনা যায় তা নিয়েই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এতে পরিবর্তন চেয়ে রাজ্য পুলিসের স্টেট ওয়েলফেয়ার কমিটির তরফে প্রস্তাবও গিয়েছে ডিজির কাছে।
রাজ্য পুলিসে অ্যাসিসট্যান্ট সাব-ইনসপেক্টর (এএসআই) থেকে সাব-ইনসপেক্টর (এসআই), কিংবা এসআই থেকে ইনসপেক্টর পদে বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হয়। কীভাবে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতে হবে সেই সংক্রান্ত বিষয় পড়ানো হয় তাঁদের। পাশাপাশি নতুন বিএনএস ও বিএনএসএসে কী কী করণীয়, তাও শেখানো হচ্ছে।
রাজ্য পুলিস সূত্রের খবর, পদোন্নতির আগে ও পরে দু’ধরনের প্রশিক্ষণই দেওযা যায়। স্টেট ওয়েলফেয়ার কমিটির পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেখা যাচ্ছে প্রি-প্রোমোশনাল ট্রেনিং করতে যেসমস্ত পুলিস কর্মী যাচ্ছেন, তাঁদের বেশিরভাগই অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এমনকী, মাত্র দুই বা তিন মাস চাকরি রয়েছে এমন ব্যক্তিকেও প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। অথচ তাঁদের পদোন্নতির কোনও সুযোগই নেই। আবার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পদোন্নতির জন্য বোর্ডে গিয়ে ‘আনফিট’ চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছেন অনেক পুলিস কর্মী। এই কারণে তাঁদের প্রোমোশন আটকে যাচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পুলিস কর্মীর পিছনে টাকা খরচ করেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। ওয়েফেয়ার কমিটির বক্তব্য, আসলে পদোন্নতির সিস্টেম এত শ্লথ যে প্রশিক্ষণ দিয়েও কোনও লাভ নেই। একমাত্র পদোন্নতি দ্রুত হলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাদের এই প্রস্তাব যাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছেন পুলিস ডিরেক্টেরেটের কর্তারা। পদোন্নতির পরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আলাপআলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে কোনও আইনি জটিলতা রয়েছে কি না তা জানতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ করা নেওয়া হচ্ছে।