Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলা ‘ঘুসপেটিয়া’দের কবজায়, অনুপ্রবেশ ঠেকাচ্ছে না পুলিশ, অভিযোগ অমিত শাহের

এসআইআরপর্বে কোটি কোটি বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গার হদিশ না মিললেও, ‘অনুপ্রবেশ’ই যে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তাদের অন্যতম ইস্যু, শনিবার ফের তা বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন বিজেপির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অমিত শাহ।

বাংলা ‘ঘুসপেটিয়া’দের কবজায়, অনুপ্রবেশ ঠেকাচ্ছে না পুলিশ, অভিযোগ অমিত শাহের
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও শিলিগুড়ি: এসআইআরপর্বে কোটি কোটি বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গার হদিশ না মিললেও, ‘অনুপ্রবেশ’ই যে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তাদের অন্যতম ইস্যু, শনিবার ফের তা বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন বিজেপির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন রাজ্যের দুই প্রান্ত বারাকপুর ও শিলিগুড়ির কর্মিসভার মঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। তাঁর অভিযোগের নির্যাস—জমি দিচ্ছেন না মমতা, তাই দেওয়া যাচ্ছে না কাঁটাতার। ঠেকানো যাচ্ছে না অনুপ্রবেশ। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়োজিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ, অমিত শাহের মন্ত্রকের অধীনস্থ। সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় টহলদারি, নজরদারি এমনকী পাকড়াও করার অধিকার সম্প্রতি বর্তেছে বিএসএফের কাঁধে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলার পবিত্র মাটি ‘ঘুসপেটিয়া’দের কবজায়। রাজ্য পুলিশ ঠেকাচ্ছে না অনুপ্রবেশ। এরপরই সীমান্ত, অনুপ্রবেশ, বিএসএফ এবং পুলিশের ‘এক্তিয়ার’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এপ্রসঙ্গে বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে প্রশাসনিক সূত্রে। তার একটা হল, কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় ২০২ একর জমি কেনার টাকা এখনও বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। অপরটা, অসুরক্ষিত আরও ১৭৯ কিমি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি কেনার কোনো  প্রস্তাব শনিবার পর্যন্ত নবান্নে পাঠায়নি দিল্লি।

Advertisement

এদিন বারাকপুরের সভার মঞ্চে ছিলেন মতুয়া সংঘাধিপতি তথা নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার সদস্য শান্তনু ঠাকুর। বক্তৃতাও দিয়েছেন। সভায় মতুয়াদের উপস্থিতিও ছিল ভালোই। ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লক্ষ নাম বাদ যাওয়াটা এখন সময়ের অপেক্ষা। এই আবর্তে তাঁদের প্রসঙ্গে কী বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন মতুয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ। বিজেপির সেকেন্ড ইন-কমান্ড ফের আশ্বাস বিলি করে জানিয়ে গেলেন—‘মমতা দিদি ভয় দেখাচ্ছে। মতুয়াদের ভয়ের কিছু নেই, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। সিএএ’র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন। ’ কিন্তু এসআইআর শেষে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মিটবে কীভাবে, উত্তর পাননি মতুয়ারা।

রাজ্যের যে দু’প্রান্তে শাহ কর্মিসভা করেছেন, সেখানকার স্থানীয় দুটি সমস্যা বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের চটকল এবং শিলিগুড়ি সন্নিহিত পাহাড়-ডুয়ার্সের চা-বাগান নিয়ে বিস্তর চিন্তায় রয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। চটশিল্পের পুনরুজ্জীবনের বদলে কেন্দ্র সরকার প্লাস্টিক লবির পাশে দাঁড়ানোয় বিপর্যস্ত গোটা শিল্পক্ষেত্র। তেমনই আবার সাতটি চা-বাগান অধিগ্রহণের ঘোষণা করে উত্তরবঙ্গের বাগান শ্রমিকদের ভোট বারবার ঝুলিতে ভরেছে বিজেপি। অধিগ্রহণের নাম গন্ধ এখন কিছু নেই। প্রত্যাশা ছিল দু’প্রান্তেই। কিন্তু রুগ্ন চটশিল্পের পুনরুজ্জীবন  বিপন্ন বাগান সংশ্লিষ্ট একটি শব্দও খরচ করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসআইআর পর্ব শেষে কবে ঘোষণা হবে নির্বাচনের দিনক্ষণ, তা নিয়ে রাজ্যে এখন বিস্তর আলোচনা। তবে নির্বাচন কমিশনের আগেই অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন, ঠিক কবে হবে ভোট, কবে গঠিত হবে সরকার। দুটি কর্মিসভাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এপ্রিল মাসে বিজেপি সরকার গঠিত হবে। ২২তম

রাজ্য বাংলা, দখল করবে ভাজপা। তারপরই সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হবে। দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলে পোরা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ