নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে বিরোধীদের যতই আপত্তি থাকুক, এ রাজ্যে তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে। এমনই দাবি শিক্ষাবিদদের একাংশের। উদাহরণ হিসেবে রাজ্য সরকারেরই একটি বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন তাঁরা। ২২ মে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তি শুক্রবার প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে শিক্ষকদের জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লেখিত বিভিন্ন ওরিয়েন্টেশন করানোর বিষয়ে ডিআইদের নির্দেশ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা কমিশনার।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুলশিক্ষায় পাপেট্রি বা পুতুল নিয়ে নানা পারফরম্যান্স, প্রাকৃতিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, ক্র্যাফ্ট স্কিল বা হাতেকলমে নানা জিনিস তৈরি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং মিউজিয়ামের ভূমিকা নিয়ে এই থিমভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কোর্স করতে বলা হয়েছে। স্কুলের তরফে শিক্ষকদের আবেদন আসবে। তাঁদের বাছাই করে নেবে স্কুলশিক্ষা ডিরেক্টরেট। ১০ থেকে ৩০ জুন জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক ওরিয়েন্টেশনগুলি চলবে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে ওরিয়েন্টেশন হবে ১৬ থেকে ২৫ জুন। পাপেট্রির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ১৯ জুন থেকে ৩ জুলাই। কোর্সগুলি রীতিমতো থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল ভিত্তিক। প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা সেগুলি নিজের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের শেখাবেন। শুধু শেখানোই নয়, সিলেবাসের পড়াশোনাকেও পাপেট্রি বা অন্যান্য বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বৃহস্পতিবারই একটি বিকল্প শিক্ষানীতির খসড়া প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটি। তাদের সাধারণ সম্পাদক তরুণ নস্কর বলেন, ‘রাজ্য সরকার যে জাতীয় শিক্ষানীতির বিভিন্ন শর্তই মেনে নিচ্ছে, এই বিজ্ঞপ্তি তার প্রমাণ। রাজ্য সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গীর তীব্র বিরোধিতা করি।’ বিকাশ ভবনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতির প্রতিটি বিষয়ের বিরোধিতা কখনও শিক্ষাদপ্তরের উদ্দেশ্য ছিল না। তবে হুবহু অনুসরণ করার অভিযোগও ঠিক নয়। উপযোগী এবং অনিবার্য বিষয়গুলি বাছাই করা হয়েছে।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অব ক্রেডিট (এবিসি) চালুর বিজ্ঞপ্তি হয়েছিল। তবে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে শুক্রবার তা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, অনিচ্ছুক পড়ুয়ারা এবিসিতে নথিভুক্ত নাও হতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের ক্রেডিট, মার্কস প্রভৃতি সেখানে তোলা হবে না। অধ্যাপক সংগঠন ‘অ্যাবুটা’র সাধারণ সম্পাদক গৌতম মাইতি জানান, তাঁরা প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন। এই পদ্ধতির ফলে স্কিল এডুকেশনের নামে যে কোনও জায়গা থেকে যেমন খুশি কোর্স করে ক্রেডিট অর্জন করা যাবে। সেগুলি পড়ুয়াদের পেশাগত দিকে উৎকর্ষ তো দেবেই না, বরং কম বেতনের কর্মী হওয়ার দিকে এগিয়ে দেবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে কর্পোরেটদের নজরে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের নথি। এটি আবশ্যিক করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এবিসি না থাকলে কেউ পরীক্ষা দিতে পারবে না। সেই বাধ্যবাধকতা আর রইল না।