Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষায় বিধ্বস্ত বাঁকুড়া জঙ্গলমহলের পুনর্গঠনে উদ্যোগী নবান্ন, কাজ শীঘ্রই, বিডিওরা পাবেন ৫০ লক্ষ করে

বৃষ্টির প্রকোপ কমলে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে রাস্তাঘাট, সেতু, কজওয়ে, কালভার্ট মেরামতের কাজ শুরু হবে। এবছর বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জেরে খাতড়া মহকুমা এলাকায় ভালো রকম ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বর্ষায় বিধ্বস্ত বাঁকুড়া জঙ্গলমহলের পুনর্গঠনে উদ্যোগী নবান্ন, কাজ শীঘ্রই, বিডিওরা পাবেন ৫০ লক্ষ করে
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বৃষ্টির প্রকোপ কমলে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে রাস্তাঘাট, সেতু, কজওয়ে, কালভার্ট মেরামতের কাজ শুরু হবে। এবছর বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জেরে খাতড়া মহকুমা এলাকায় ভালো রকম ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারফলে রাস্তাঘাট সহ অন্যান্য পরিকাঠামো নষ্ট হয়। পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিডিওদের গড়ে ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী ব্লকভিত্তিক ওই টাকা কমবেশি হতে পারে।

Advertisement

খাতড়ার মহকুমা শাসক শুভম মৌর্য বলেন, এবছর বর্ষায় ভালো বৃষ্টি হয়েছে। তারফলে খাতড়া মহকুমার কিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাটের উপর দিয়ে জলের প্রবল স্রোত বয়ে যাওয়ার কারণে পরিকাঠামো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখনও দু’-একদিন অন্তর বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা যাবে না। বৃষ্টির প্রকোপ কমলেই আমরা মেরামতের কাজ শুরু করব। 
খাতড়া মহকুমার এক বিডিও বলেন, ব্লকগুলিকে গড়ে ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে আমাদের জানানো হয়েছে। পুজোর আগেই ওই টাকা ব্লকে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তর থেকে আলাদা অর্থ বরাদ্দ হতে পারে। সবমিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলে পরিকাঠামো উন্নয়নখাতে অনেক কাজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 
রাইপুরের বাসিন্দা সুনির্মল ভট্টাচার্য, রানিবাঁধের বামাচরণ মণ্ডল বলেন, ভারী বর্ষণের জেরে আমাদের এলাকায় রাস্তাঘাট, কজওয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। কজওয়ে ভেঙেচুরে যাওয়ায় চলাচল করা যাচ্ছে না। রোগী নিয়ে যানবাহনকে ঘুরপথ ধরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পুজোর আগেই মেরামতের কাজ শুরু হলে ভালো হয়। 
উল্লেখ্য, এমনিতেই জঙ্গলমহলে পরিকাঠামো উন্নয়নে সমস্যা রয়েছে। বাম আমলের তুলনায় রাস্তাঘাটের মান ভালো হলেও সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। এবার গ্রীষ্মকাল থেকেই ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি হয়েছে। পরপর নিম্নচাপে জেলায় রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। তারফলে তালডাংরা, রাইপুর, সিমলাপাল সহ জঙ্গলমহলের সিংহভাগ ব্লক এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তালডাংরা ব্লকের পাঁচমূড়া অঞ্চলের একাধিক গ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়। হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে বন্যা কবলিত এলাকা থেকে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দিতে হয়। ঘরবাড়ির পাশাপাশি রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ও কজওয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়। রাইপুরের শ্যামসুন্দরপুর অঞ্চলের একটি কজওয়ে ভেঙেচুরে যায়। সিমলাপালে শিলাবতী নদীর উপর থাকা একাধিক কজওয়ে ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁকুড়া-রানিবাঁধ, বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কও ভারী বর্ষণের জেরে জায়গায় জায়গায় বসে যায়। যানবাহনের চাকার চাপে পরে সেইসব জায়গার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা সংস্কারের দাবিতে বাসিন্দারা সরব হয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ