নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্পের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘এসএনএ-স্পর্শ’ (যাকে প্রশাসনিক মহলে জাস্ট ইন টাইম বলা হচ্ছে) নামাঙ্কিত নয়া ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্র। এই ব্যবস্থাপনায় প্রকল্প বাবদ বরাদ্দের টাকা রাজ্যের হাতে (স্টেট নোডাল অ্যাকাউন্টে) না দিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি খরচ হচ্ছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে রাজ্য প্রশাসন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়বে বলে কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন মহলের তরফে। তবে সমস্ত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে অন্যান্য অনেক রাজ্যের আগে অম্রুত, স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পাচ্ছে বাংলা।
এই ব্যবস্থাপনায় সংযোগকৃত পদ্ধতিতেই কাজের অগ্রগতি যাচাই করতে পারে কেন্দ্র। ফলে আগের বরাদ্দ অর্থ যথাযথ ভাবে খরচ না-হলে পরের কিস্তির টাকা কোনওভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়। আর এখানেই উঠে আসছে রাজ্যের সাফল্যের বিষয়টি। ১০০ দিনের কাজ, আবাস প্রকল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে হিসেবে গরমিলের অভিযোগ তুলে বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে মাত্র তিনমাস আগে (মে মাসে) প্রাপ্ত অর্থের যথাযথ ব্যবহারের জেরে চলতি মাসেই অম্রুত প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির টাকা পেতে চলেছে বাংলা। মে মাসে নিজের অংশ হিসেবে ২৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল রাজ্যের ৪৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৭০০ কোটি টাকার ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি জল, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, পুকুর সংস্কারের মতো কাজ করা হয়েছে। বাকি ২০০ কোটি টাকার কাজও চলছে জোর কদমে। কাজের এই অগ্রগতি দেখেই ফের ২৫০ কোটি টাকা অনুমোদনের কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। অর্থাৎ, এর সঙ্গে রাজ্যের অংশের টাকা মিলিয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার কাজ হবে ডিসেম্বরের মধ্যেই। যাতে ডিসেম্বরেই ফের একটি কিস্তির দাবি জানাতে পারে রাজ্য।
একইভাবে স্বচ্ছ ভারত মিশন (যা বাংলায় ‘নির্মল বাংলা’ নামে পরিচিত) প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এসএনএ-স্পর্শ সফল ভাবে কার্যকর করায় এর আগে ২৬০ কোটি টাকা পেয়েছে বাংলা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল রাজ্যের অংশের ২০০ কোটি টাকা। জানা গিয়েছে, এই অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খরচ করায় বাংলাকে কেন্দ্র ফের ২০০ কোটি টাকা দিতে চলেছে।