রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: নরেন্দ্র মোদি জমানায় পেরিয়ে গিয়েছে ১১ বছর। আজও বাংলা পেল না কোনো কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রী! আর মাস খানেকের মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাবে। এই অবস্থায় তৃণমূল এই ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এতদিনে এ রাজ্যে একজনও পূর্ণমন্ত্রী না দিয়ে বাংলার প্রতি তাদের বিমাতৃসুলভ আচরণই স্পষ্ট করেছে বিজেপি।
রাজ্যের শাসক দলের দাবি, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প খাতে বাংলাকে ন্যায্য পাওনা না দিয়ে ধারাবাহিক বঞ্চনা চলে আসছে। কেন্দ্রের কাছে মোট ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা। তার উপর এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটেও বাংলাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের। ভোটমুখী বাংলায় এসব বিষয় বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলকে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলা থেকে কেন্দ্রের সরকারে একজনও পূর্ণমন্ত্রী না থাকার ‘বঞ্চনা’ প্রসঙ্গ।
এখন বাংলা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর। দু’জনই রাষ্ট্রমন্ত্রী। পূর্ণমন্ত্রী নন। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার করে ফেলেছেন ১১ বছর ২৫৬ দিন। এই ১১ বছরে বাংলা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন নিশীথ প্রমাণিক, জন বারলা, সুভাষ সরকার, দেবশ্রী চৌধুরি, এসএস আলুওয়ালিয়া। কিন্তু কেউই পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন না। জন বারলা বিজেপি ছেড়ে ইতিমধ্যে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও আরও একজন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রী।
এই অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাকে কোনোদিনই পূর্ণমন্ত্রী দিতে চায়নি দিল্লি বিজেপি। বছরের পর বছর এটা চলে আসছে। অনেকেই মনে করেছিলেন, ভোটের আগে যেভাবে বিহারকে উন্নয়নের ডালিতে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাংলার ক্ষেত্রেও তেমনটাই করবে বিজেপি। সেই সঙ্গে অন্তত একজন বাংলার সাংসদকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ভোটের মুখে পালে হাওয়া টানতে চাইবে গেরুয়া শিবির। দুটোর কোনোটাই করেনি তারা। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র তথা সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘বাংলা থেকে কেন্দ্রের সব হাফপ্যান্ট মন্ত্রী। বাংলার প্রতি ওদের যদি আদৌ কোনো ভালোবাসা থাকত, তাহলে গত ১১ বছরে কেন বাংলার কাউকে পূর্ণমন্ত্রী করা হল না? আসলে দিল্লি বিজেপির নেতারা দেওয়াল লিখন পড়ে ফেলেছেন। বাংলায় বিজেপির কোনো জায়গা নেই।’ পালটা জবাবে বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার যুক্তি, ‘রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভায় তফসিলি জাতি, উপজাতি, আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে কতজনকে স্থান দেওয়া হয়? কেন উত্তরবঙ্গ থেকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধি কম থাকে? আর বিজেপি বিধায়কদের রাজ্য সরকার কোনো প্রসাশনিক বৈঠকে ডাকে না। জনপ্রতিনিধিদের তো কাজ করার সুযোগই দেয় না।’