Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধান কেনার সময় ওজনে কারচুপি? কৃষকদের অভিযোগে সক্রিয় খাদ্যদপ্তর, জারি নির্দেশিকা

সরকারের কাছে কৃষকদের ধান বিক্রির সময় প্রায়শই ওজন নিয়ে অভিযোগ শোনা যায়। কৃষকদের আনা ধানের ওজন কম করে দেখানো হচ্ছে— এই অভিযোগে ক্রয় কেন্দ্রে হইচই বেধে যায়।

ধান কেনার সময় ওজনে কারচুপি? কৃষকদের অভিযোগে সক্রিয় খাদ্যদপ্তর, জারি নির্দেশিকা
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারের কাছে কৃষকদের ধান বিক্রির সময় প্রায়শই ওজন নিয়ে অভিযোগ শোনা যায়। কৃষকদের আনা ধানের ওজন কম করে দেখানো হচ্ছে— এই অভিযোগে ক্রয় কেন্দ্রে হইচই বেধে যায়। তাই আগামী নভেম্বর থেকে যে নতুন খরিফ মরশুমের (২০২৫-২৬) ধান কেনা শুরু হবে, সেখানে ওজন ঠিকঠাক রাখার উপর বিশেষ নজর দিচ্ছে খাদ্যদপ্তর। ধান কেনার কেন্দ্রগুলিতে ওজন পরিমাপক ইলেকট্রনিক যন্ত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রগুলি আগে থেকে যাচাই ও ‘ক্যালিব্রেশন’  প্রক্রিয়া ঠিকঠাক করে নিতে হবে।  রাজ্য সরকারের ওজন দেখভালের জন্য যে বিভাগ আছে, তাদের সঙ্গে  জেলা পর্যায়ের খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকদের বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যাসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার অব লিগাল মেট্রোলজির অফিসকে আগাম জানাতে হবে, কোথায় কোথায় ধান কেনার কেন্দ্র হচ্ছে। ওজন যন্ত্রগুলির যথাযথ সার্টিফিকেট নিশ্চিত করতে হবে। যন্ত্রে ২০০ কেজি থেকে ৩ টন পর্যন্ত ধান ওজন করার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। সব ক্রয় কেন্দ্রে ওজন করার ব্যবস্থা ঠিকমতো আছে কি না, তা জেলা খাদ্য নিয়ামককে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় ওজন যন্ত্রগুলির যাচাই ও ক্যালিব্রেশনের কাজ ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে এই কাজ সারতে হবে। 

Advertisement

ধান কেনার কেন্দ্রগুলিতে ওজন করার প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছভাবে হয়, তার জন্য ওজন যন্ত্রের সঙ্গে ‘ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব পারচেজ’ বা ই-পপ  মেশিন  যুক্ত থাকে। এই মেশিনে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকের আধার নম্বরের বায়োমেট্রিক যাচাই করা হয়। প্রকৃত কৃষকের জায়গায় যাতে দালাল চক্র সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে না পারে, তার জন্যই এই সতর্কতা।
ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ওজনের পাশাপাশি ধানের বিশুদ্ধতাও যাচাই করা হয়। ধানে সর্বোচ্চ কতটা আর্দ্রতা, বিভিন্ন ধরনের পদার্থ থাকতে পারে, তার মাপকাঠি সরকার নির্দিষ্ট করে দেয়। ধানের ওজন ও গুণগত মান পরীক্ষা করার জন্য বিভিন্ন উপকরণ কিনতে কেন্দ্র পিছু ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট ৬০৪টি স্থায়ী ও ১৭৫টি ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল ক্রয় কেন্দ্র করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উপকরণ কিনতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৮ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ