Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকেই বুথের ভিতর-বাইরে ওয়েব কাস্টিং

নিরাপত্তার আঁটোসাঁটো করতে পশ্চিমবঙ্গে দু’দফার ভোটে সর্বাধিক ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকেই বুথের ভিতর-বাইরে ওয়েব কাস্টিং
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে পশ্চিমবঙ্গে দু’দফার ভোটে সর্বাধিক ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তাতেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না জ্ঞানেশ কুমাররা। এবার ভোটের দু’দিন আগে থেকেই রাজ্যের সবক’টি বুথে ক্যামেরায় নজরদারি অর্থাৎ ওয়েব কাস্টিং করতে চলেছে কমিশন। এই মর্মে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং সব জেলাশাসককে নির্দেশ পাঠিয়েছে তারা। 

Advertisement

এর আগের নির্বাচনগুলিতে সাধারণত ভোটের দিন ওয়েব কাস্টিং করা হত। অর্থাৎ বুথে কীভাবে ভোট হচ্ছে, সিসি ক্যামেরা মারফত তার উপর নজরদারি চালাত কমিশন। কিন্ত এবার সেই নিয়মে বিরাট বদল আনা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকদের পাঠানো চিঠিতে নির্দেশ আকারে কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে বুথ তৈরির দায়িত্ব জেলা নির্বাচনি আধিকারিকদের। প্রতিটি বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে তাদের। আর সেটা শুধু ভোটের দিনের জন্য নয়। নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকেই ক্যামেরায় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শুধু বুথের ভিতরে নয়, বাইরেই এমনভাবে ক্যামেরা নজরদারি চালাতে হবে, যাতে বুথের বাইরে চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা নজরদারির আওতায় থাকে। ভোটারদের লাইন ক্যামেরার আওতায় রাখতে হবে এবং বুথের চারপাশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে, সেটাও যেন নজর এড়িয়ে না যায়। এখানেই শেষ নয়। ভোটের দু’দিন আগে থেকে (প্রথম দফার ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল) ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে নজরদারি চালাতে হবে। কোনো ক্যামেরা কাজ না করলে তৎক্ষণাৎ তা বদলে ফেলতে হবে বলেও নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি যাবতীয় ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে কি না, তা জানিয়ে ভোটের দু’দিন আগেই ডিইওদের এই সংক্রান্ত রিপোর্টও পাঠাতে বলেছে কমিশন।
নজরদারি নিয়ে পৃথক নির্দেশে বলা হয়েছে, বুথের ভিতর এমনভাবে ক্যামেরা রাখতে হবে, যাতে ভোটারকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। এছাড়াও ভোটদানের পর ভোটারের হাতে যে কালি লাগানো হয়, তাও ক্যামেরায় গোচর হওয়া চাই। কোনো ‘অবৈধ’ ব্যক্তি বুথে প্রবেশ করলে, তা যেন ক্যামরার বাইরে না যায় বলে নির্দেশে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। 
রাজ্যের স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ওয়েবকাস্টিংয়ের জন্যও নয়া বিধি কার্যকর করেছে কমিশন। প্রতিটি স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথে আলাদা ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। ভোটের দু’দিন আগে প্রত্যেক ডিইও পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলকভাবে বুথ ও তার চারপাশের ৫০০ মিটার এলাকা পরিদর্শন করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য যাবতীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ওয়েবকাস্টিংই নয়, এবার ত্রিস্তরীয় নজরদারির ব্যবস্থা রাখছে কমিশন। বুথের ভিতর ও বাইরে যে ক্যামেরাগুলি থাকবে, তা দু’দিন আগে থেকেই নজরদারির আওতায় আসবে। প্রথম স্তরে নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার অ্যসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার। দ্বিতীয় স্তরে নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন জেলার ডিইও। আর সর্বোপরি, সিইও অফিসে বসে কন্ট্রোল রুম থেকে একসঙ্গে ১৫ থেকে ১৬টি বুথের নজরদারি করবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। এককথায়, রাজ্যে এবার ভোটে যাতে মাছি গলতে না পারে, সেই ব্যবস্থাই করতে চলছে কমিশন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ