নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাঙ্গেয় বঙ্গের উপর সৃষ্টি হওয়া আচমকা ঘূর্ণাবর্তেই কাহিল কলকাতা ও শহরতলি। যার কোনও পূর্বাভাসই সেই অর্থে ছিল না আলিপুর হাওয়া অফিসের কাছে। দোসর ছিল ওড়িশা থেকে সরে আসা মৌসুমি অক্ষরেখা। এই জোড়া ফলার প্রভাবে বৃহস্পতিবারের মতো আজ শুক্রবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে। যদিও, আলিপুর হাওয়া অফিসের দাবি, মৌসুমি অক্ষরেখা সরে আসায় বৃষ্টি যে হবে, তার পূর্বাভাস আগেই দেওয়া হয়েছিল।
এদিন ঘূর্ণাবর্তের জেরে বেলা গড়াতেই কলকাতা, সল্টলেক, দমদম থেকে শুরু করে হাওড়া, দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়। শহর-শহরতলিতে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যায়। আলিপুর হাওয়া অফিসের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবথেকে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সল্টলেকে, ৮২ মিমি। দমদমে ৩৩.৭ মিমি, ডায়মন্ডহারবারে ৬৪.৪ মিমি, সাগরে ৬১.৪ মিমি, ক্যানিংয়ে ৩৭.৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিনের বৃষ্টিতে সল্টলেক, নিউটাউন, রাজারহাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দিনভর ভোগান্তি হয়েছে বাসিন্দাদের। যানজট হয়েছে প্রবল। তবে, সেভাবে জল-ছবির দেখা মেলেনি।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর, দত্তপুকুর, দেগঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকায় এদিন দুপুর থেকে অতিবৃষ্টির জেরে দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় জল জমে ছিল, তার উপর এদিনের বৃষ্টিতে বহু জায়গায় টইটম্বুর অবস্থা হয়। আজ, শুক্রবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, নাগরিক দুর্ভোগ যে বাড়বে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এদিন দুপুর থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় হাওড়া শহরের বেশকিছু এলাকায় জল জমে যায়। শৈলেন মান্না সরণি, ফোরশোর রোড, জি টি রোড, বামনগাছি রোড, বেনারস রোড সহ একাধিক রাস্তায় জমা জলের দেখা মিলেছে। পাশাপাশি, শিবপুর, সালকিয়া, দক্ষিণ হাওড়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও একই ছবি ধরা পড়েছে। তবে সন্ধ্যার পর বেশ কিছু এলাকা থেকে জল সরে গিয়েছে বলে দাবি হাওড়া পুরসভার।
এদিন দুপুরে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হল বারুইপুর পুরসভা এলাকা। বারুইপুরের ১, ৩, ৪, ৫, ৮, ১০, ১১, ১৩, ১৪ এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়েছে। মদারাট স্কুলের সামনে কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। বাসিন্দাদের বাড়িতেও জল ঢুকেছে। নর্দমার জল ও বৃষ্টির জল মিলেমিশে একাকার। ফি বছরের মতো এবারও জমা জলের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। বারুইপুর স্টেশনে রেললাইনেও জল জমে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
কাকদ্বীপ মহকুমা এলাকায় বুধবার রাত থেকে শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি চলেছে সারাদিন। এর ফলে বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা ডুবে গিয়েছে। এছাড়াও ধানের বীজতলা ডুবে গিয়েছে। ফলে, ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।