নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার দুপুরে স্কুটারে করে ওষুধ কিনতে যাচ্ছিলেন। আচমকা তাঁর পথ আটকায় একটি বাইক। বর্ষাতি পরা দু’জন বাইক থেকে নেমে এসে স্কুটারচালককে বললেন, ‘এত সোনা পরে যাচ্ছেন কেন? খবরের কাগজ পড়েন না নাকি? ঘোষবাবু তো এই সোনার জন্যই খুন হয়েছেন। প্রকাশ্য রাস্তায় গলায় চাকু বসিয়ে সব সোনা লুট করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। আমরা পুলিশ। এই আমাদের আইডি কার্ড! সব গয়না খুলে স্কুটারের ডিকিতে ঢুকিয়ে সোজা বাড়ি চলে যান।’ তাঁদের কথামতো সেই কাজই করেন স্কুটারচালক। বাড়ি গিয়ে ডিকি খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। সোনার আংটি-চেন গেল কই?
কলকাতা পুলিশের অপরাধ দমন শাখার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে দুঃসাহসিক কেপমারির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পর্ণশ্রী থানা এলাকার শকুন্তলা পার্কের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার। সোমবার থানায় লিখিতভাবে কেপমারির অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃগাঙ্ক গঙ্গোপাধ্যায় নামের ওই ব্যক্তি। শকুন্তলা পার্কের ১২ ফুট রোডের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি একটি ছাপাখানায় কাজ করেন। রবিবার তাঁর ছুটি ছিল। প্রৌঢ় বলেন, ‘এমন ঘটনা আগে কখনও শুনিনি। কী যে হল, কখন সোনার চেন-আংটি দুষ্কৃতীরা হাতিয়ে নিল, বুঝতেই পারলাম না।’ ঠিক কী হয়েছিল রবিবার দুপুরে? অভিযোগকারীর কথায়, ওইদিন তিনি ওষুধ কিনতে যাচ্ছিলেন। বীরেন রায় রোডে একটি পেট্রল পাম্পের সামনে একটি বাইক তাঁর পথ আটকায়। কিন্তু, তার তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যান মৃগাঙ্কবাবু। তাতেও লাভ হয়নি। পিছু নিয়ে বেনি মাস্টার লেন পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করে বাইকটি। সেখানে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে স্কুটারটি দাঁড়াতে বলে ছদ্মবেশী দুষ্কৃতীরা।
দু’জনেই অ্যান্টি ক্রাইম ব্রাঞ্চের (অপরাধ দমন শাখা) পরিচয়পত্র দেখান। অভিযোগকারীর কথায়, তাঁরা কালো রেন কোট পরেছিলেন। মাথায় ছিল হেলমেট। সেই সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই দু’জন তাঁকে সতর্ক করে বলে, ‘তিনদিন আগে এলাকায় খুন হয়েছে। সেই খবর কাগজে বেরিয়েছে। সেই ঘটনার পর বাসিন্দাদের সাবধান করতেই তারা সাদা পোশাকে এলাকায় টহলদারি করতে বেরিয়েছে। তাই আপনাকে বলছি, এত সোনা পরে রাস্তায় চলাচল করবেন না। এলাকায় দুষ্কৃতীরা ঘোরাফেরা করছে। আপনার গলায় চাকু চালিয়ে দিতে পারে কেউ।’
এরপর তাদের উপস্থিতিতেই তিনি সমস্ত সোনার গয়না খুলে একটি প্লাস্টিকের মধ্যে রাখেন। ওই প্যাকেট ও মৃগাঙ্কবাবুর মোবাইল ফোন স্কুটারের ডিকির ভিতর ঢোকাতে সাহায্য করে ছদ্মবেশী দুই ‘পুলিশ’। বাড়ি ফিরে সেই প্লাস্টিক খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। দেখেন, মোবাইল ফোন রয়েছে। কিন্তু, গায়েব আংটি ও চেন। পর্ণশ্রী থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর তৎপর হয় পুলিশ। গোটা এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের বাইকটি চিহ্নিত করেছেন অভিযোগকারী। যদিও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।