নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তাঁদের কাজ মূলত প্রযুক্তি বিষয়ক। প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে প্রযুক্তিগত কোনও সমস্যা হলে দ্রুত তা মেটাতে হয় তাঁদের। কিন্তু তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম যাচাই থেকে শুরু করে নানা কাজকর্ম করে দিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে রাজ্যের সব জেলার নির্বাচন বিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার, সহকারী সিস্টেম ম্যানেজার এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের রীতিমতো মুচলেকা দিয়ে বলতে হল, ‘ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম যাচাই থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ আমরা করব না।’
শনিবার এই কর্মী-আধিকারিকদের সঙ্গে চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেখানেই মুচলেকা জমা দিতে বলা হয়। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে কাকদ্বীপ ব্লকের যুগ্ম বিডিও স্বপনকুমার হালদারের ফোন নম্বর বদলে নিজের নম্বর দিয়ে ফর্ম যাচাই বা নিষ্পত্তি করেছিলেন অরুণ গড়াই নামে এক সহকারী সিস্টেম ম্যানেজার। তাঁকে সাসপেন্ড করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সূত্রের খবর, অন্যের লগ-ইন আইডি বা পাসওয়ার্ড তো দূরের কথা, নিজের ফোন নম্বরও ভোটের কাজ সংক্রান্ত পোর্টালে কোথাও দেওয়া যাবে না বলে মুচলেকা দিতে হয়েছে তাঁদের। এর অন্যথা হলে আইন মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এমন মুচলেকা এর আগে কখনও এই সরকারি আধিকারিকদের দিতে হয়নি। কিন্তু নির্ভুল কাজের স্বার্থে এবং পদের অপব্যবহার রুখতে এই কড়া পদক্ষেপ কমিশন নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। সেই কথা মাথায় রেখে আগেভাগে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। এদিন গোটা রাজ্য থেকে ১০ জন সিস্টেম ম্যানেজার, ৪৯ জন সহকারী সিস্টেম ম্যানেজার এবং ৫৫ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বৈঠকে হাজির ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।