জোড়া দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী আপনি। কেমন লাগছে নতুন দায়িত্ব?অনগ্রসর কল্যাণ এবং জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছি। এটা শুধু দায়িত্ব নয়, একটা চ্যালেঞ্জ। দু’টি দপ্তরেরই অবস্থা খারাপ। এতদিন যারা ছিল, তাদের কোনো গঠনমূলক ভূমিকা ছিল না। সেটা দপ্তরে গিয়ে এবং আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেই বুঝতে পেরেছি।
রাজ্যে গ্রন্থাগারের উন্নয়নের জন্য কী ভাবছেন?
প্রতিটি লাইব্রেরির আধুনিকীকরণ করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ ধরে বই পড়ার মতো পরিবেশ লাইব্রেরিতে গড়ে তুলতে হবে।
নিয়োগ নিয়ে সরকারের কী ভাবনা?
প্রায় অর্ধেক লাইব্রেরিতেই লাইব্রেরিয়ান নেই। কেউ দু’টি, কেউ তিনটি লাইব্রেরির দায়িত্বে রয়েছেন। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ করতে হবে। তাই আমরা একটু ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছি। সম্ভবত আগামী বছরের প্রথমদিকে আমরা পর্যাপ্ত কর্মী পেয়ে যাব।
অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের ক্ষেত্রে কী চিন্তাভাবনা? কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন?
অনেকে ভুয়ো শংসাপত্র জোগাড় করে সুবিধা নিয়েছে। আবার বহু যোগ্য শংসাপত্র পাননি। পূর্বতন সরকারের মন্ত্রীরা এবং অনেক আধিকারিক গুরুত্ব দেননি। অনেক কর্মীর কাজের মানসিকতা নেই। প্রতিটি অফিসে কর্মসংস্কৃতি ফেরানোয় অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সেইসঙ্গে বিভিন্ন স্কলারশিপের টাকা বাড়ানোর জন্য আমরা রেজ্যুলিউশন করে অর্থদপ্তরে জমা দিয়েছি। হস্টেলে থাকা অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়াদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দিতে সুপারিশ করেছি।
অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ‘আদর্শ গ্রাম যোজনা’ পূর্বতন সরকার এরাজ্যে চালু করেনি। আপনার দপ্তরের মাধ্যমেই তো রাজ্যজুড়ে এই যোজনার কাজ হওয়ার কথা?
কেন্দ্রের এই প্রকল্প চলতি অর্থবর্ষ থেকেই শুরু হবে। যেখানে ৫০শতাংশ কিংবা তার বেশি তফশিলি জাতি-উপজাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে, সেখানে এই প্রকল্পে বুথ পিছু ২০লক্ষ টাকার কাজ করবে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর। কী কী কাজ করা যায়, তার পরিকল্পনা করছি।
কর্মসংস্কৃতি না থাকার অভিযোগ বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর তৃণমূলও করেছিল। এখন বিজেপি একই কথা বলছে। কীভাবে কর্মসংস্কৃতি ফেরাবেন?
কর্মীদের একটাই বার্তা দেব, আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালন করাই কর্তব্য। অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের কর্মীদের বেশ কিছু দাবি ছিল। অফিসের আধুনিকীকরণের প্রয়োজন ছিল। আমরা সেসব করে দেওয়ায় তাঁরা মন-প্রাণ দিয়ে কাজ করছেন। এতদিন না ছিল সরকারি কাজ, না ছিল বেসরকারি কাজ। কতবছর এসএসসি হয়নি। আমাদের সরকার প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষা নেবে। আর বেসরকারি ক্ষেত্রে শিল্প গড়ে উঠলে এরাজ্যের ছেলেমেয়েদের পরিযায়ী শ্রমিক হতে হবে না।
মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেই এরাজ্যের সবচেয়ে বেশি শ্রমিক দেশ বিদেশে কাজে যাচ্ছেন। তাঁদের কীভাবে আটকাবেন?
এটা শশাঙ্কের জেলা, রানী ভবানীর জেলা, সিরাজউদ্দৌলার জেলা। একদা বাংলা-বিহার-ওড়িশার রাজধানীতে এখন সবচেয়ে বেশি পরিযায়ী শ্রমিক। গত ৮০বছরে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল মুর্শিদাবাদের মানুষকে এই রাস্তা দেখিয়েছে। চিকিৎসা করাতে, উচ্চশিক্ষা নিতে, কাজ পেতে অন্য রাজ্যে যাও। আর এরাজ্যে ফিরে বিজেপিকে গাল দিয়ে আমাদের ভোট দাও। আমাদের উদ্দেশ্য সার্বিক বিকাশ, কর্মসংস্থান ও আধুনিকীকরণ। সরকার শিল্প ও কলকারখানা স্থাপনে পদক্ষেপ করছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় কী বড় কোনো শিল্প প্রাপ্তি ঘটবে?
অবশ্যই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়া যায়, এমন বেশ কিছু সরকারি জমি আমরা খুঁজে বের করেছি। বিরোধীরা মানুষকে বোঝাচ্ছে, বিজেপি সাম্প্রদায়িক, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। বাকি দলগুলো কাজ দিয়ে রাজনীতি করে। তাহলে কেন এত মানুষকে পরিযায়ী শ্রমিক হতে হল?
বিরোধীদের অভিযোগ তৃণমূলের বেশ কিছু বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করেছেন। এনিয়ে কী বলবেন?
ওরা এসব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিজেপি কোনো সেটিং করে না। তৃণমূলকে যেভাবে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে ওদের সঙ্গে সেটিং করার কোনো প্রশ্নই নেই। আমরা আমাদের আইডিওলজি নিয়ে রাজনীতি করি। সাক্ষাৎকার: অভিষেক পাল