নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত ‘নন স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’র (এনএসকিউ) ওষুধ বিক্রি করি না। এই মর্মে পোস্টার লাগাতে হবে ওষুধের দোকানদারদের। ভেজাল ওষুধ থেকে ক্রেতাদের বাঁচাতে এমনই নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল ভেজাল ওষুধের তালিকা ঘোষণা করে। ওষুধের দোকানগুলিতে সেই মতো পোস্টার বা বোর্ড ঝোলানোর কাজ শুরু হয়েছে। গোটা রাজ্যে ড্রাগ কন্ট্রোলের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে বলেছে দোকানদারদের শীর্ষ সংগঠন বিসিডিএ।
পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জয়রাম হেমব্রম বলেন, ‘নন স্ট্যান্ডার্ড ওষুধের তালিকা দোকানের সামনে টাঙিয়ে রাখতে হবে। যেসব ওষুধ পরীক্ষায় ফেল করেছে, সেগুলির তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ ড্রাগ কন্ট্রোলের ওসি মানস চক্রবর্তী বলেন, ‘ওষুধের দোকানগুলিতে গাইডলাইন পাঠিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে, সরকারি ঘোষিত এনএসকিউ ওষুধ বিক্রি করা হয় না বলে লিখতে হবে।’ আরেক আধিকারিক জানান, ওষুধ খাওয়ার পর কাজ না হলে যে কেউ ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানাতে পারেন। সেই ফোন নম্বরও ক্রেতারা যাতে জানতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে। ই-মেল করেও অভিযোগ জানানো যাবে। বিসিডিএ’র মুখপাত্র শঙ্খ রায়চৌধুরী বলেন, ‘ইতিমধ্যে বহু দোকান এই কাজ করে দিয়েছে। অর্থবর্ষ শেষের কাজকর্ম নিয়ে আগামী দু’-তিনদিন সবাই খুব ব্যস্ত থাকবে। তারপর তারাও পোস্টার ঝুলিয়ে দেবে।’
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলার ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসারকে আরও বেশি করে দোকান পরিদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। দোকানগুলিতে ওষুধ বিক্রির লাইসেন্সও টাঙিয়ে রাখতে হবে। বৈধ নথি ছাড়া দোকান চলছে কি না, তাও যাচাই করতে হবে। ওষুধের কিউআর কোড স্ক্যান করার পর ‘যাচাই করা যায়নি’ জাতীয় বার্তা এলে ওষুধটি খাঁটি নয় বলে ধরতে হবে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু জায়গায় প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বর্ধমান শহরে মাসকয়েক আগে পুলিস নকল নার্সিংহোমের হদিশ পেয়েছিল। সেখানে ওষুধও বিক্রি করা হতো বলে পুলিস জানতে পারে। ওই ‘নার্সিংহোম’ মালিক ওষুধ বিক্রির কোনও নথি দেখাতে পারেননি।
এদিকে, কলকাতার একটি অভিজাত ক্লাবে শনিবার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসাররা ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের শীর্ষ সংগঠন ইডমার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি কর্মশালায় অংশ নেন। ২৫০ কোটি টাকার কম লেনদেনের প্রস্তুতকারকদের নয়া আর্থিক বছর থেকে গুণগত মানের ওষুধ তৈরিতে আরও নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। কী কী সেই নিয়ম, তা নিয়ে এদিন আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল ভেজাল ওষুধ সংক্রান্ত ৬টি মামলার তদচন্ত চালাচ্ছে। সম্প্রতি উত্তর কলকাতার এক প্রাইভেট হাসপাতালে যৌথ অভিযান চালান কেন্দ্র ও রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় জাল অ্যালবুমিন। সেই কেসের তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা।