Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তরমুজে ইঞ্জেকশন দিয়ে মেশানো হচ্ছে রং, ভয়ে খাচ্ছেন না ক্রেতারা

লাল টকটকে রঙের তরমুজ খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছেন।

তরমুজে ইঞ্জেকশন দিয়ে মেশানো হচ্ছে রং, ভয়ে খাচ্ছেন না ক্রেতারা
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: লাল টকটকে রঙের তরমুজ খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছেন। কিন্তু সেই লালের আড়ালেই রয়েছে ক্ষতির আশঙ্কা। অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জ দিয়ে লাল রং তরমুজের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে রাখছে। তরমুজকে লাল টকটকে ও সতেজ রাখতে ‘ইরিথ্রোসাইন বি’ নামক একটি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যা শরীরে মারত্মক প্রভাব ফেলে। তাই তরমুজ কিনতে গেলে এখন অনেকেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কিছুদিন আগেও তরমুজ কেনার সময়ে তার টুকটুকে লাল রং দেখে তবেই কিনতেন। বাড়িতে গিয়ে তরমুজ কাটার পর রং যদি ফ্যাকাশে বেরোত, তৎক্ষণাৎ বাজারে তা ফেরত দিতে ছুটতেন। ফল বিক্রেতার সঙ্গে রীতিমতো ঝগড়া বেধে যেত কারও কারও। কিন্তু এখন সেই হিসাব বদলে গিয়েছে। তরমুজ কিনতে গিয়ে টুকটুকে লাল রং দেখলে এখন অনেকেই ভুরু কুঁচকে বেশ সন্দেহের দৃষ্টিতেই তার দিকে তাকান। 

Advertisement

সমাজমাধ্যম, গণমাধ্যমের দৌলতে অনেকের মাথাতেই কিলবিল করতে থাকে নানা রকম প্রশ্ন। তরমুজের এই গাঢ় লাল রং রাসায়নিক বা ক্ষতিকর ডাইয়ের জন্য নয় তো? অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জ দিয়ে সেই রং তরমুজের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে রাখেননি তো? সেই ফল খেলে ক্যানসার হবে না তো? 
কালচে সবুজ রংয়ের খোসার আড়ালে লাল মিষ্টি তরমুজের আশা করে অনেকেই বাজার থেকে গরমের অত্যন্ত উপকারী ফল কিনে আনেন। কিন্তু সেই ফলে ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, তা জানা দুঃসাধ্য। তবে সামাজিক মাধ্যমে খুঁটিনাটি ভিডিও দেখার সৌজন্যে অনেকেই কীভাবে তরমুজ পরীক্ষা করবেন তা শিখে গিয়েছেন। তরমুজ লাল করতে রং মেশানো আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন অনেকেই। ইউটিউবে সহজে দেখা যায় কী করে তরমুজের ভিতর রং আছে কি না তা পরীক্ষা করার উপায়। তরমুজ কাটার পর খুব টকটকে লাল দেখলে একটি তুলোর টুকরো কিংবা টিস্যু পেপার বুলিয়ে নিলে যদি লাল আভা বা গাঢ় লাল রং ওই টিস্যু কিংবা তুলোর উপরে চলে আসে তাহলে বুঝতে হবে তরমুজের ভিতরে রং ভরে দেওয়া হয়েছে। যা খেলে পেটের অসুখের সম্ভাবনা তো আছেই। কিডনি বিকল হতে পারে বলেও সাবধান করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
তাঁদের দাবি, ক্রেতাদের চোখে তরমুজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ফলের মধ্যে না কি ‘ইরিথ্রোসাইন বি’ নামক একটি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ‘নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, এই রাসায়নিকটি শরীরে গেলে ডায়েরিয়া, পেটের গোলমাল, বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। তবে এখানেই শেষ নয়, এই রাসায়নিকের ফল সুদূরপ্রসারী। গর্ভধারণ, বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত জটিল সমস্যাও ডেকে আনতে পারে এটি।
তবে উদ্যানপালন নিয়ে গবেষণা করা ব্যক্তিরা বলছেন, বাইরে থেকে ইঞ্জেকশন দিয়ে কৃত্রিম রং প্রবেশ করানো হলেও তা ফলের ভিতর নির্দিষ্ট কিছু অংশে ছড়িয়ে যায়। ফলের ভিতর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে না। তাই একটু বুঝে তরমুজ কিনলেই হবে। গরমে তরমুজ শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ভালো। এটি ইউরিক অ্যাসিড কমাতে যেমন সাহায্য করে, তেমন শরীরকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ