নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কর্পোরেশন এলাকা ঘেঁষা পঞ্চায়েত। নিকাশি পরিষ্কার কে করবে, তা নিয়ে চলে টানাপোড়েন। ফলস্বরূপ গোটা এলাকা জলে জলাকার। রাস্তায় বইছে জলের স্রোত। এটা বর্ষার ছবি নয়। মে মাসের তীব্র গরমে যখন সাধারণ মানুষের হাঁসফাস দশা, তখনও জমা জলের ভোগান্তি সহ্য করছেন থানামাকুয়া পঞ্চায়েতের বিবেকানন্দ নগর কলোনির বাসিন্দারা। অভিযোগ, বছরে আট মাসই এই অবস্থা থাকে। যদিও জমা জল সরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন।
আন্দুল রোডের পূর্বতন ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক হাসপাতালের বিপরীতেই বিবেকানন্দ নগর কলোনি। কর্পোরেশন এলাকা ঘেঁষা থানামাকুয়া পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে জায়গাটি। কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এলাকায়। চুনাভাটি মোড় থেকে হাঁসখালি পোল পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ নিকাশি নালার কিছুটা অংশ হাওড়া পুরসভার অধীনে রয়েছে। বাকিটা এই পঞ্চায়েতের অধীনে। অভিযোগ, দুই দপ্তরের টানাপোড়েনে দিনের পর দিন নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজ হয় না। ফলে সেটি আবর্জনার স্তূপে ঢেকে গিয়েছে। এদিকে নিকাশি নালা থেকে বিবেকানন্দ নগরের রাস্তা প্রায় ১০ ইঞ্চি নিচু। ফলে নোংরা জল নালা পর্যন্ত পৌঁছতেই পারে না। বছরের বেশিরভাগ সময়েই তা জমে থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জল বইতে থাকে রাস্তার উপর দিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকার সবাইকে সব সময়ে প্লাস্টিকের চপ্পল ব্যবহার করতে হয়। কারণ বছরের বেশিরভাগ সময়ই রাস্তায় প্রায় হাঁটুর নীচ পর্যন্ত জল জমে থাকে। বর্ষাকালে তো কথাই নেই। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, নদীর কাছাকাছি নয়, যেন নদীতেই বসবাস করছি আমরা। জমা জলের কারণে বাড়িতে কাজের জন্য পরিচারিকা পর্যন্ত পাওয়া যায় না! কেউ আসতে চান না।
জমা জলের সমস্যা শুধু বিবেকানন্দ নগর কলোনিতেই নয়, পার্শ্ববর্তী রামকৃষ্ণপল্লি, মসজিদপাড়া, সরকারপাড়াতেও একই অবস্থা।
এদিন ভরদুপুরে বিবেকানন্দ নগরে গিয়ে দেখা গেল, রাস্তায় রীতিমতো জলের স্রোত বইছে। গত কয়েকদিনে সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। তবুও জমা জল সরার কোনও লক্ষণই নেই। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে গজিয়ে উঠেছে অনেক বহুতল ভবন। অথচ সেগুলির নিকাশি আউটলেটের ব্যবস্থাই নেই। ফ্ল্যাটগুলির বাসিন্দাদের ব্যবহৃত জলও রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। নিকাশি নালা পরিষ্কার না হওয়ায় অবস্থা দুর্বিষহ।
বিষয়টি নিয়ে থানামাকুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান আবু মণ্ডল বলেন, ইতিমধ্যেই জমা জলের বিষয়টি বিডিও এবং ডিএমকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। দ্রুত নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজ শুরু হবে। ফলে জমা জল আর থাকবে না। তবে আপাতত অস্থায়ীভাবে জমা জলের সমস্যা মেটালেও বর্ষাকালে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছে পঞ্চায়েত। জানা গিয়েছে, আগেই এলাকায় একটি চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। এরপর রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধি করে নিকাশি নালার সমান করতে হতো। পরিকল্পনা ছিল, জমা জল নিকাশির মাধ্যমে চেম্বারে পড়বে। সেখান থেকে পাম্প করে জল নদীতে ফেলে দেওয়া হবে। কিন্তু পঞ্চায়েতের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেই কাজ সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইতিমধ্যেই রাস্তা উঁচু করার জন্য রাজ্যের রুরাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিকে জানানো হয়েছে বলে দাবি পঞ্চায়েতের। - নিজস্ব চিত্র